নিজস্ব প্রতিবেদক

বুধবার , ০৪ July ২০১৮

সুচির সমালোচনা এড়িয়ে গেলেন জাতিসংঘ মহাসচিব


রোহিঙ্গাদের বিরুদ্ধে অপরাধের জন্য মিয়ানমারের সরকারকে জবাবদিহির মুখোমুখি করার আহ্বান জানিয়েছেন জাতিসংঘ মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেস।

কিন্তু এই পুরো ঘটনায় মিয়ানমারের নোবেল পুরস্কার বিজয়ী নেত্রী আং সান সুচির ভূমিকাকে তিনি কিভাবে দেখেন?

বিবিসিকে দেয়া এক সাক্ষাৎকারে যখন মিস্টার গুতেরেসকে সরাসরি এই প্রশ্নটি জিজ্ঞাসা করা হয়েছিল, তখন তিনি এর সরাসরি উত্তর এড়িয়ে যান। আং সান সুচির কোন সমালোচনা না করে মিস্টার গুতেরেস বলেন, মিয়ানমারে আসলে এখনো সেনাবাহিনীই সব কিছুর নিয়ন্ত্রণে।

মি. গুতেরেস রোহিঙ্গা শরণার্থীদের অবস্থা নিজের চোখে দেখতে গতকাল বাংলাদেশের কক্সবাজারে গিয়েছিলেন। সেখানে পরে তিনি এক সংবাদ সম্মেলনে বলেছিলেন, রোহিঙ্গাদের যে দুঃখ কষ্ট তিনি দেখেছেন তাতে তার হৃদয় ভেঙে গেছে।

তিনি বলেছেন,"ছোট ছোট রোহিঙ্গা শিশুদের দেখে আমার নাতি-নাতনিদের কথা মনে পড়ে গেছে। তাদের অবস্থাও যদি এমন হতো তাহলে কিরকম হতো।"

মি. গুতেরেস আরও বলেছেন, "এই শিবিরগুলো পরিদর্শন করলে, রোহিঙ্গা জনগণের দুর্ভোগ দেখলে - কারো মর্মাহত না হয়ে উপায় নেই। ভয়াবহ সহিংসতা, হত্যা, ধর্ষণ নিযার্তন, গ্রাম-বাড়িঘর জ্বালিয়ে দেবার গল্প শুনেছি। এটা সম্ভবত পরিকল্পিতভাবে মানবাধিকার লংঘনের সবচেয়ে করুণ ঘটনাগুলোর একটি। আমি এর আগে উত্তর রাখাইনে দু'বার গিয়েছি। আমার কোন সন্দেহ নেই যে রোহিঙ্গারা বিশ্বের সবচাইতে বেশি বৈষম্যের শিকার জনগোষ্ঠীগুলোর অন্যতম।"

শরণার্থীদের দুর্দশা দেখে জাতিসংঘ মহাসচিব যদিও রীতিমত বিচলিত হয়ে পড়েছিলেন, তারপরও এই পুরো ঘটনার জন্য মিয়ানমারের নেত্রী আং সান সুচিকে সমালোচনা করতে চাননি তিনি।

বিবিসির রেডিও ফোর এর টুডে অনুষ্ঠানে আন্তোনিও গুতেরেস তার বাংলাদেশ সফরের অভিজ্ঞতা নিয়ে একটি সাক্ষাৎকার দেন। অনুষ্ঠানে বিবিসির মার্থা কার্নি তাকে সরাসরি জিজ্ঞেস করেন, এই পুরো ঘটনায় আং সান সুচির ভূমিকাকে আপনি নিজে কিভাবে দেখেন? যেখানে কিনা জাতিসংঘ পর্যন্ত একসময় তাকে গৃহবন্দী অবস্থা থেকে মুক্তির জন্য দীর্ঘদিন ধরে চেষ্টা চালিয়েছে?

উত্তরে আন্তোনিও গুতেরেস বলেন, "আসলে আমাদের পক্ষে এরকম পরিস্থিতির বিচার করা কঠিন। আমার বিশ্বাস মিয়ানমারে এখনো সেনাবাহিনীই সবকিছুর নিয়ন্ত্রণে। যে পরিস্থিতি সম্পর্কে আমি বিস্তারিত জানি না, সে বিষয়ে আমি কোন সিদ্ধান্তে উপনীত হতে চাই না। তবে আমাদের প্রত্যাশা হচ্ছে, মিয়ানমারের সরকারের লোকজন মানবাধিকারের এবং আইনের শাসনের রীতি-নীতি মেনে চলবে। তাদের উচিত ছিল এরকম ঘটনা প্রতিরোধ করা।"

আং সান সুচিকেও তিনি এর মধ্যে অন্তর্ভুক্ত করেন কিনা, জানতে চাইলে মিস্টার গুতেরেস বলেন, হ্যাঁ। তবে আমি কোন বিচারক নই। বিচার করা আমার কাজ নয়। আমি স্বীকার করি যে (তার জন্য) পরিস্থিতি হয়তো খুবই প্রতিকুল ছিল এবং সামরিক বাহিনী সেখানে এখনো সবকিছুর নিয়ন্ত্রণে।"

"অবস্থা যদি বদলাতে হয়, আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের আসলে এই সেনবাহিনীর ওপরই চাপ দেয়া উচিৎ" - বলেন তিনি।-বিবিসি



সর্বশেষ সংবাদ