ভয়াবহ আগুনে পুড়ে ছাই বঙ্গবাজার

নিজস্ব প্রতিবেদক : মঙ্গলবার , ০৪ এপ্রিল ২০২৩

ফায়ার সার্ভিসের মিডিয়া সেলের কর্মকর্তা আনোয়ারুল ইসলাম বলেন, ‘বঙ্গবাজারে লাগা আগুন দুপুর ১২টা ৩৬ মিনিটে নিয়ন্ত্রণে এসেছে।

মঙ্গলবার (৪ এপ্রিল) সকাল ৬টা ১০ মিনিটে বঙ্গবাজারে আগুন লাগার খবর পায় ফায়ার সার্ভিস। এরপর বাহিনীর ৫০টি ইউনিট ঘটনাস্থলে আগুন নেভাতে কাজ শুরু করে।

তাদের সঙ্গে যুক্ত হয় সেনা, নৌ, বিমান বাহিনী এবং বিজিবির সদস্যরা। মুহূর্তেই আগুন বঙ্গবাজার থেকে আশপাশ এলাকায় ছড়িয়ে পড়ে।

বঙ্গবাজারে লাগা আগুনে ক্ষয়ক্ষতির পরিমাণ ব্যাপক বলে ধারণা করা হচ্ছে।

আগুনের বিষয়টি নিয়ে বিস্তারিত জানাতে অল্প কিছুক্ষণের মধ্যেই প্রেস ব্রিফিং করবেন ফায়ার সার্ভিস অধিদপ্তরের মহাপরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মো. মাইন উদ্দিন।

আগুন নেভাতে বেগ পেতে হয়েছে জানিয়ে ফায়ার সার্ভিস ডিজি বলেন, বাতাসের কারণে আগুন দ্রুত ছড়িয়ে পড়ে। এ ছাড়া শুরুতেই উৎসুক মানুষের ভিড়ের কারণেও আগুন নেভাতে বেগ পেতে হয়েছে। এ ছাড়া আশপাশে পানির অভাবেও আগুন নেভাতে দেরি হয়েছে। 

ফায়ার সার্ভিসের ডিজি জেনারেল মো. মাইন উদ্দিন জানান, আগুনের খবর পাওয়ার পর ২২টি ফায়ার স্টেশনের ৪৮টি ইউনিট আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ করে। আগুন নিয়ন্ত্রণে আসে ১২টা ৩৬ মিনিটে। ৬৫০ জন কর্মকর্তা-কর্মচারী আগুন নিয়ন্ত্রণে কাজ করে। অগ্নিকাণ্ডের কারণ ও ক্ষয়ক্ষতি তদন্ত সাপেক্ষ বলা যাবে বলেও জানান তিনি। 

এখন পর্যন্ত ফায়ার সার্ভিসের ৮ জন আহত হয়েছেন, যারা ঢাকা মেডিক্যালে চিকিৎসাধীন। বিপুল পরিমাণ মানুষের ভিড়ে অগ্নিনির্বাপণ বিলম্বিত ও বাধাগ্রস্ত হয় বলে জানান তিনি। 

এর আগে ১৯৯৫ সালে একবার ভয়াবহ আগুনে পুড়ে যায় বঙ্গবাজার। সে দুর্ঘটনায় ওই এলাকার অধিকাংশ দোকানই পুড়ে ছাই হয়ে যায়। পরে তৎকালীন ঢাকা সিটি করপোরেশন সেখানে নিজস্ব তত্ত্বাবধানে গড়ে তোলে টিনকাঠ দিয়ে নির্মিত দুই ও তিন তলাবিশিষ্ট চার ইউনিটের ‘বঙ্গবাজার কমপ্লেক্স’ নামে কাপড়ের পাইকারি মার্কেট।

বঙ্গবাজার হকার্স মার্কেটের তথ্যমতে, ১৯৯৫ সালে মার্কেটটিতে দুবার আগুন লাগে। প্রথমবার প্রায় ২ হাজার ২০০ দোকান পুড়ে ছাই হয়ে যায়। দ্বিতীয়বারের আগুনে আংশিক দোকান পুড়ে যায়। আগুনে পুড়ে যাওয়া মার্কেটে ক্ষতির পরিমাণ কয়েক কোটি টাকা দাঁড়ায়। সে সময় সরকার থেকে ১ কোটি টাকা, ডিসিসি থেকে ৪০ লাখ টাকা এবং টিন ১১ বানসহ দোকানদারদের কাছ থেকে ৫ হাজার করে টাকা নিয়ে মার্কেটটি পুনর্নির্মাণ করা হয়। সে সময় সরকার থেকে শুরু করে সব ধরনের ক্রেতার একটি সহানুভূতি ছিল মার্কেটের ওপর।

সর্বশেষ ২০১৮ সালের ২৪ জুলাই আগুন লেগে বঙ্গবাজার কমপ্লেক্সের (গুলিস্তান ইউনিট) কয়েকটি দোকান পুড়ে যায়।

ঢাকা দক্ষিণ সিটি করপোরেশনের মালিকানাধীন বঙ্গবাজার চারটি ইউনিটে বিভক্ত। বঙ্গবাজার কমপ্লেক্স, গুলিস্তান ইউনিট, মহানগর ইউনিট ও আদর্শ ইউনিট মিলিয়ে মোট দোকানের সংখ্যা ২ হাজার ৩৭০টি। ফায়ার সার্ভিসের পরিদর্শক কমিটি ২০১৭ সালে বঙ্গবাজারের এ চারটি ইউনিটকে ‘খুবই ঝুঁকিপূর্ণ’ চিহ্নিত করে বাজার কর্তৃপক্ষকে যথাযথ পদক্ষেপ নেওয়ার পরামর্শ ও নির্দেশনা দেয়।

ফায়ার সার্ভিসের তালিকা অনুযায়ী রাজধানীর ১ হাজার ৩০৫টি শপিং মল/মার্কেট ও বিপণিবিতানের মধ্যে ৬২২টি ‘খুবই ঝুঁকিপূর্ণ’ এবং ৬৭৮টি ‘ঝুঁকিপূর্ণ’ হিসেবে চিহ্নিত। মাত্র পাঁচটিকে ‘সন্তোষজনক’ হিসেবে চিহ্নিত করেছে সংস্থাটি।

স্বাধীনতার আগে রেলের জায়গায় এই বঙ্গবাজার মার্কেটের গোড়াপত্তন। শুরুতে ছোট ছোট ব্যবসায়ী ও হকাররা বসতেন। ফুলবাড়িয়ায় তখন ঢাকার প্রধান রেলস্টেশন ছিল। স্বাধীনতার পর ১৯৭৫ সালে ঢাকা পৌরসভা কর্তৃপক্ষ টিনশেড দোকানগুলো ভেঙে পাকা করার সিদ্ধান্ত নেয়। তবে রেল কর্তৃপক্ষ মালিকানা ছাড়তে রাজি না হওয়ায় দোকানিরা ইজারা নিয়ে দোকান বসানোর অনুমতি পান। ১৯৮৫ সালে সিটি করপোরেশন জায়গাটির মালিকানা পায় এবং ১৯৮৯ সালে সেখানে মার্কেট নির্মিত হয়। তখন থেকেই এটির নাম হয় বঙ্গবাজার। ২১ হাজার ২৫০ বর্গফুট আয়তনের এ বঙ্গবাজার ১৯৮৫ থেকে ১৯৯০ সালের মধ্যে তৈরি পোশাকের বড় বাজার হিসেবে পরিচিতি পায়।


আর্কাইভ