বৃহস্পতিবার , ২৩ নভেম্বর ২০১৭

মাধ্যমিক স্কুলেও কমিটি করার সিদ্ধান্ত ছাত্রলীগের

মাধ্যমিক স্কুলে কমিটি তৈরি করতে সব সাংগঠনিক ইউনিটকে নির্দেশ দিয়েছে বাংলাদেশ ছাত্রলীগ। সংগঠনটির সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের স্বাক্ষর করা এক বিজ্ঞপ্তিতে এ নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। গতকাল মঙ্গলবার কেন্দ্রীয় নির্বাহী সংসদ এ নির্দেশ দেয়। 

ছাত্রলীগের সভাপতি সাইফুর রহমান সোহাগ আজ বুধবার রাতে প্রথম আলোকে বলেন, ‘স্কুলে কমিটি মোটেও নতুন কিছু নয়। আমাদের গঠনতন্ত্রে স্কুল কমিটি করার বিষয়টি আছে। আমাদের স্কুলছাত্রবিষয়ক সম্পাদকও আছে।’ 

খোঁজ নিয়ে দেখা গেছে, শুধু ছাত্রলীগ নয়—ছাত্রদল, ছাত্র ইউনিয়নসহ বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের স্কুল পর্যায়ের কমিটি আছে। আর এ রীতি চালু আছে দীর্ঘদিন ধরে। এসব সংগঠনের গঠনতন্ত্রেই স্কুল কমিটি করার বিষয়টি উল্লেখ আছে। 

তবে স্কুল পর্যায়ে ছাত্রসংগঠনের কমিটির বিরোধিতা করেছেন ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের অধ্যাপক সৈয়দ মনজুরুল ইসলাম। তিনি বলেছেন, ‘স্কুলের শিক্ষার্থীদের কাজ লেখাপড়া করা, খেলাধুলা, বিতর্ক বা অন্যান্য সাংস্কৃতিক চর্চা করা। এখানে তাদের রাজনীতি শেখানোর কোনো দরকার নেই।’ শুধু স্কুল নয়, কলেজ পর্যায়েও ছাত্রসংগঠনের বিরোধিতা করেন এই শিক্ষাবিদ। 
ছাত্রলীগ সভাপতি সাইফুর রহমান সোহাগ এবং সাধারণ সম্পাদক এস এম জাকির হোসাইনের স্বাক্ষর করা বিবৃতিতে ‘বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের আদর্শকে মাধ্যমিক পর্যায়ের ছাত্রছাত্রীদের মধ্যে পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্যে এবং বাংলাদেশে ছাত্রলীগকে আরও গতিশীল ও বেগবান করার লক্ষ্যে’ এই কমিটি গঠনের নির্দেশ দেওয়া হয়। কমিটি গঠনসংক্রান্ত বিষয়ে সার্বিক তত্ত্বাবধানের দায়িত্ব দেওয়া হয় সংগঠনটির স্কুলছাত্রবিষয়ক সম্পাদক মো. জয়নাল আবেদীনকে।
সাইফুর রহমান সোহাগ বলেন, ‘ছাত্রসংগঠন স্কুলে করাটা বরং ভালো। কেননা এর ফলে শিক্ষার্থীদের রাজনৈতিক জ্ঞান বৃদ্ধি পায়।’ তিনি বলেন, ছাত্রলীগের জন্মের পর থেকেই স্কুলে তাদের কমিটি আছে। 
এখন কত স্কুলে কমিটি আছে, সেই সংখ্যা বলতে না পারলেও তিনি জানান, বিশেষ করে ফেনী, নোয়াখালী অঞ্চলের অনেক স্কুলে তাদের কমিটি আছে। আর নতুন করে বিজ্ঞপ্তি দেওয়ার কারণ তাঁর মতে, এসব সংগঠনের সংখ্যা বাড়ানো।

সোহাগের মতোই স্কুলে সংগঠনের কমিটি করার মধ্যে কোনো ‘অনৈতিকতার’ কিছু দেখেন না জাতীয়তাবাদী ছাত্রদলের সভাপতি রাজীব হাসান। তিনি প্রথম আলোকে বলেন, দেশের উত্তরাঞ্চলের বিভিন্ন জায়গায়, বরিশাল ও নোয়াখালীর বিভিন্ন জায়গায় তাঁদের কমিটি রয়েছে। ছাত্রদলের স্কুলবিষয়ক একটি সম্পাদকের পদ আছে বলে জানান রাজীব।

বাম ধারার ছাত্রসংগঠন বাংলাদেশ ছাত্র ইউনিয়নের সাধারণ সম্পাদক লিটন নন্দী জানান, অষ্টম শ্রেণির পর থেকে সংগঠন করার নিয়ম আছে তাদের সংগঠনে। এই রীতিও পুরোনো। আর স্কুলে সংগঠন করার বিষয়টি তাদের গঠনতন্ত্রেই রয়েছে।

অধ্যাপক মনজুরুল ইসলাম বলেন, ‘আমাদের বড় দুই দল আদর্শহীন রাজনীতি করে। এই আদর্শহীনতা স্কুলের শিক্ষার্থীদের মধ্যে যাওয়া মোটেও উচিত নয়।’ স্কুল পর্যায়ে কমিটি বন্ধ করতে তিনি সরকারের প্রতি আহ্বান জানান। তিনি বলেন, ‘আমাদের জাতীয় রাজনীতিতে একে অন্যকে গালিগালাজ করা, দোষারোপ করা একটি সহজাত অভ্যাস। একজন শিক্ষার্থী কি এসব শিখবে ছোটবেলাতেই?’ তিনি বলেন, স্কুলে কমিটি করার অর্থ হলো এসব মূলধারার বা সরকারি দল সমর্থক সংগঠনের শিক্ষার্থীরা প্রশ্ন ফাঁস করা শিখবে। 
বাম সংগঠনের প্রতিও সৈয়দ মনজুরুলের আহ্বান কমিটি করা থেকে বিরত থাকার। তিনি বলেন, যে কাঠামোর মধ্যে এসব সংগঠন চলছে, সেখানে সংগঠন করার কোনো দরকার নেই। তারা কী শিক্ষার্থীদের বিতর্ক করতে শেখাবে, আবৃত্তি করতে শেখাবে? স্কুলে এগুলোই দরকার। তাদের রাজনীতির দরকার নেই। উচ্চমাধ্যমিক পাসের পর উচ্চ শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে রাজনীতি শেখার যথেষ্ট সময় আছে।


সর্বশেষ সংবাদ