নিজস্ব প্রতিবেদক

শনিবার , ২৫ নভেম্বর ২০১৭

দক্ষিণ আফ্রিকা সফরের প্রস্তুতিরও সময় নেই, ক্ষুব্ধ কোহালি


মাঠের মধ্যে ব্যাট হাতে তাঁর দাপট দেখতে অভ্যস্ত ক্রিকেট বিশ্ব। এ বার মাইক হাতে নজিরবিহীন ভাবে ভারতীয় বোর্ডকে তির নিক্ষেপ করলেন বিরাট কোহালি। ভারত অধিনায়ক কার্যত অভিযোগই করে বসলেন যে, দক্ষিণ আফ্রিকা যাওয়ার আগে প্রস্তুতির জন্য কোনও সময়ই তাঁরা পাচ্ছেন না।

বোর্ডের বিরুদ্ধে মুখ বন্ধ করে থাকাটাই যেখানে ভারতীয় ক্রিকেট রেওয়াজ হয়ে গিয়েছে, সেখানে কোহালি এমন কথাও বলে দিলেন যে, ক্রিকেটারদের এই প্রস্তুতির ব্যাপারটি নিয়ে বোর্ডের বিশেষ সাধারণ সভাতেও যদি কিছুটা সময় ব্যায় করা হয়, উপকার হবে।  

নাগপুরে শ্রীলঙ্কার বিরুদ্ধে দ্বিতীয় টেস্ট শুরু হচ্ছে আজ, শুক্রবার থেকে। প্রাক-ম্যাচ সাংবাদিক সম্মেলনে এসে বিস্ফোরক সব কথা বলে গেলেন কোহালি। বলে দিলেন, কোনও সময় হাতে নেই বলেই দক্ষিণ আফ্রিকা সফরের প্রস্তুতি সারতে শ্রীলঙ্কা সিরিজে সবুজ পিচে খেলতে হচ্ছে। ‘‘দুর্ভাগ্যজনক ভাবে, শ্রীলঙ্কার বিরুদ্ধে সিরিজ শেষ হওয়া আর দক্ষিণ আফ্রিকা রওনা হওয়ার মধ্যে আমাদের হাতে থাকছে শুধু দু’টো দিন। সেই কারণেই টেস্ট ম্যাচের মধ্যেই পরবর্তী সফরের প্রস্তুতি সেরে ফেলতে হচ্ছে,’’ বলেন কোহালি।

এখানেই না থেমে তিনি যোগ করেন, সঠিক প্রক্রিয়া মানলে এক মাস ধরে প্রস্তুতি নেওয়া উচিত ছিল। তখন দক্ষিণ আফ্রিকা যাওয়ার আগে প্রস্তুতি শিবিরও করতে পারতেন তাঁরা। আধুনিক ক্রিকেট যুগে যে কোনও বড় সফরের আগে সম্ভাব্যদের নিয়ে শিবির করাটা বাধ্যতামূলক হয়ে গিয়েছে। স্টিভ স্মিথের অস্ট্রেলিয়া যেমন শেষ বারই ভারতে খেলতে আসার আগে দুবাইয়ে দীর্ঘ প্রস্তুতি শিবির করে এসেছিল। কোহালিরা বিশ্বের সবচেয়ে ধনী ক্রিকেট দেশ হলেও সে রকম কোনও অভিনবত্ব তাঁদের বোর্ড কখনও দেখায়নি।

ভারতীয় বোর্ড উল্টে শ্রীলঙ্কাকে এনে লম্বা সিরিজ খেলানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছে। এটাও ঠিক যে, ভারতীয় বোর্ডেও এখন চূড়ান্ত ডামাডোল চলছে। কে সিদ্ধান্ত নিচ্ছেন, তা নিয়েই বিভ্রান্তি। সুপ্রিম কোর্টের নির্দেশে পর্যবেক্ষকেরা রয়েছেন কর্তাদের মাথার উপরে। শ্রীলঙ্কাকে তাদের দেশে একবার খেলে আসার পরেই ফের নিজেদের দেশে আমন্ত্রণ জানানোর সিদ্ধান্ত কোন পক্ষের, তা নিয়ে প্রশ্ন উঠে পড়েছে।

কোহালি বলে ফেলেছেন, ‘‘ঠাসা সূচির জন্য সময় না পাওয়ার ব্যাপারটার দিকে নজর দেওয়া দরকার ভবিষ্যতে।’’ এটা যে বোর্ড কর্তাদের প্রতি কঠোর বার্তা, তা নিয়ে সন্দেহ নেই। বিরাট-তিরে বিদ্ধ ভারতীয় বোর্ড দ্রুত প্রতিক্রিয়া দিতে বাধ্য হয়। বোর্ডের কার্যকরী সভাপতি সি কে খন্না জানান, এ নিয়ে তাঁরা ভাববেন। ‘‘বিরাট ভারত অধিনায়ক। ক্রিকেট নিয়ে ওর বক্তব্য সবচেয়ে গুরুত্ব পাওয়া উচিত। দল যে রকম খেলছে, তাতে আমরা গর্বিত। তবে ক্রিকেটারেরা ক্লান্ত বোধ করলে আমাদের সেটা নিয়ে ভাবা উচিত।’’

কোহালি যদিও ক্লান্তির কথা শুধু নয়, প্রস্তুতির অভাবের দিকেও নজর দেওয়ার আর্জি জানিয়েছেন। সবচেয়ে দৃষ্টিকটূ দেখাচ্ছে বোর্ড সচিব অমিতাভ চৌধুরীর কয়েক দিন আগের বক্তব্য। কলকাতায় টেস্ট চলাকালীন এসে অমিতাভ ঘোষণা করে গিয়েছিলেন, দক্ষিণ আফ্রিকা যাওয়ার আগে নাকি শিবির হবে। প্রশ্ন উঠছে, বোর্ডের শীর্ষ কর্তাও কি জানেন না যে, হাতে থাকছে মাত্র দু’তিন দিন? সেই সময়ের মধ্যে শিবির হবে কী করে?

কোহালি আরও বলেছেন, ‘‘এটাও ভেবে দেখা উচিত যে, পর-পর তিনটে সিরিজ খেলাটাও ঠিক হচ্ছে কি না। ক্রিকেটারদের জন্য কোনও বিশ্রামই থাকছে না। বিষয়টি সঠিক মঞ্চে আলোচিত হওয়া দরকার। ভাল হয়, যদি আগামী ৯ ডিসেম্বরের বিশেষ সাধারণ বৈঠকে এটা নিয়েও আলোচনা করা হয়।’’ আইপিএলের পরেই ইংল্যান্ডে চ্যাম্পিয়ন্স ট্রফি খেলতে ছুটেছিলেন তাঁরা। সেখান থেকে সোজা ওয়েস্ট ইন্ডিজ। তার পর শ্রীলঙ্কায় খেলে ফিরেই দেশের মাটিতে পর-পর তিনটি সিরিজ। অস্ট্রেলিয়া, নিউজিল্যান্ড এবং শ্রীলঙ্কার বিরুদ্ধে।

কোহালি বোর্ডের প্রতি বার্তা পাঠানোর পাশাপাশি যোগ করে দিতে ছাড়েননি বিদেশ সফর নিয়ে সমালোচকদের মতামতের কথাও। ভারত অধিনায়ক বলছেন, ‘‘বিদেশ সফর নিয়ে মতামত দিতে কেউ ছাড়ে না। বাইরে টেস্ট ম্যাচের ফলাফল দিয়ে লোকে ক্রিকেটারদের যোগ্যতা মাপতে যায়। কেউ মনে রাখে না, আমরা প্রস্তুতির জন্য কতটুকু সময় পেলাম। সমালোচনা করাটা মেনে নেওয়া যায় যদি আমাদেরও আদর্শ প্রস্তুতি সারতে দেওয়া হয়।’’ হালফিলে বোর্ডের কার্যকলাপ নিয়ে এতটা সরব হতে দেখা যায়নি কোনও ভারত অধিনায়ককে।


সর্বশেষ সংবাদ