৮২ আরোহী নিয়ে শাহজালালে বিমানের জরুরি অবতরণ

নিজস্ব প্রতিবেদক : শনিবার , ১০ অক্টোবর ২০২৬

হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে জরুরি অবতরণ করেছে কক্সবাজার থেকে ঢাকাগামী বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের একটি উড়োজাহাজ। এতে ক্রুসহ ৮২ জন আরোহী ছিলেন।

জানা গেছে, নোজ ল্যান্ডিং গিয়ারে ত্রুটি দেখা দেওয়ায় জরুরি অবতরণের পরিস্থিতি তৈরি হয়। জরুরি অবতরণের সময় বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী, বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের (বেবিচক) চেয়ারম্যান এবং সংশ্লিষ্ট ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত থেকে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করেন।

শনিবার (১০ অক্টোবর) বিকেল ৩টা ৯ মিনিটে বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের ফ্লাইট বিজি-৪৩৬ (কক্সবাজার-ঢাকা) ফ্লাইটটি জরুরি অবতরণ করে। এতে ৭৮ জন যাত্রী ও চারজন ক্রুসহ মোট ৮২ জন আরোহী ছিলেন।

বেসামরিক বিমান চলাচল কর্তৃপক্ষের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এসব তথ্য জানানো হয়।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের ড্যাশ-৮ মডেলের উড়োজাহাজটি দুপুর ১টা ৩৫ মিনিটে কক্সবাজার থেকে ঢাকার উদ্দেশ্যে যাত্রা করে। উড়োজাহাজটির নির্ধারিত অবতরণের সময় ছিল দুপুর ২টা ৩০ মিনিট। উড্ডয়নের পর উড়োজাহাজটির ২ নম্বর হাইড্রোলিক সিস্টেমে ত্রুটি দেখা দেয়। এতে নোজ ল্যান্ডিং গিয়ার স্বাভাবিকভাবে সম্প্রসারণে সমস্যা তৈরি হয়।

পরিস্থিতি বুঝতে পেরে পাইলট দুপুর ২টা ২০ মিনিটে এরিয়া কন্ট্রোলের মাধ্যমে জরুরি পরিস্থিতির কথা জানান। তখন উড়োজাহাজটি আনুমানিক ১৮ হাজার ফুট উচ্চতায় অবস্থান করছিল। পরে এরিয়া কন্ট্রোল ঢাকা টাওয়ারকে বিষয়টি অবহিত করে।

জরুরি বার্তা পাওয়ার পরপরই ঢাকা টাওয়ার প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করে। বিমানবন্দরের ফায়ার সার্ভিস ও রেসকিউ টিমকে সতর্ক অবস্থায় রাখা হয়। একই সঙ্গে উড়োজাহাজটির অবতরণের জন্য মার্শালিংয়ের প্রস্তুতি নেওয়া হয় এবং সংশ্লিষ্ট ইউনিটগুলোর মধ্যে সমন্বয় ও যোগাযোগ নিশ্চিত করা হয়।

বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্স জানায়, পাইলটের কার্যকর পদক্ষেপে বিকল্প পদ্ধতিতে নোজ ল্যান্ডিং গিয়ার সম্প্রসারণ করা সম্ভব হয়। পরে বিকেল ৩টা ৯ মিনিটে উড়োজাহাজটি হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে নিরাপদে অবতরণ করে। অবতরণের পর যাত্রী ও ক্রুদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ সমন্বিতভাবে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করে।

ঘটনার সময় বেসামরিক বিমান পরিবহন ও পর্যটনমন্ত্রী, বেবিচক চেয়ারম্যান, বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও), বেবিচকের সদস্য (পরিচালনা ও পরিকল্পনা), হযরত শাহজালাল আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের নির্বাহী পরিচালকসহ বিমানবন্দর ও বিমান বাংলাদেশ এয়ারলাইন্সের সংশ্লিষ্ট কর্মকর্তারা উপস্থিত থেকে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করেন।


আর্কাইভ