চঞ্চল দাশগুপ্ত,কক্সবাজার প্রতিনিধি : ২০২৬ সালের উচ্চ মাধ্যমিক সার্টিফিকেট (এইচএসসি) ও সমমান পরীক্ষার ফলাফলে কক্সবাজার জেলায় আবারও ভয়াবহ বিপর্যয় ঘটেছে। বিগত ১৩ বছরের মধ্যে এবার পাসের হার সর্বনিম্ন । প্রায় অর্ধেকের বেশি শিক্ষার্থী এবার ফেল করেছে। পাশাপাশি জিপিএ-৫ প্রাপ্তির ক্ষেত্রে বড় ধরনের ধস নেমেছে।
শনিবার (৩১ অক্টোবর) ঘোষণা হওয়া ফলাফলে কক্সবাজার জেলায় পাসের হার মাত্র ৪৩.৩৪%। আর জিপিএ-৫ পেয়েছে মাত্র ৫৩ জন। এদের মধ্যে ছেলে ১২ জন এবং মহিলা ৪১ জন।
গতবছর (২০২৫ সালে) পাশের হার ছিল ৪৫.৩৯% এবং জিপিএ-৫ পেয়েছিল ২০৬ জন। এদের মধ্যে ছেলে ৬৭ জন এবং মহিলা ১৩৯ জন ছিল।
২০২৪ সালে ছয়টি বিষয়ের এইচএসসি পরীক্ষায় গড় পাসের হার ছিল ৬৩.১৯%। আর জিপিএ-৫ পেয়েছিল ৪৯৮ জন।২০২৩ সালে পাসের হার ছিল ৭০.৩৮%। ২০২২ সালে পাশের হার ছিল ৭৪.৯২%। ২০২১ সালে পাশের হার ৮৬.৮৮ %। ২০২০ সালে করোনার কারণে সবাই অটো পাশ। ২০১৯ সালে পাসের হার ৫৪.৩৯%। ২০১৮ সালে পাসের হার ছিল ৬১.৬৬ %। ২০১৭ সালে পাসের হার ছিল ৫৫.৩২%। ২০১৬ সালে পাসের হার ছিল ৬৪.৮০%। ২০২০ সালে করোনাকালীন সময়ে এইচএসসি ও সমমানের পরীক্ষায় সবাইকে পাস করিয়ে দেওয়া হয়। যেটিকে ‘অটোপাস’ বলা হয়ে থাকে। ফলাফল প্রস্তুতের ক্ষেত্রে বিগত বছরের এসএসসির ফল বিবেচনা নেওয়া হয়। আর ২০২১ সালে সংক্ষিপ্ত সিলেবাসে পরীক্ষা অনুষ্ঠিত হয় এবং জেএসসি ও এসএসসি পরীক্ষার কিছু নম্বর যোগ করে চূড়ান্ত ফলাফল তৈরি করা হয়েছিল, যার ফলে পাসের হার স্বাভাবিকের তুলনায় অনেক বেশি ছিল।
কিন্তু এবছরের (২০২৬ সাল) ফলাফল অনুযায়ী পাসের হার সবচেয়ে কম মানবিক বিভাগে। এই বিভাগে পাস করেছে মাত্র ৩৭.০৮% পরীক্ষার্থী। আর বিজ্ঞান বিভাগে পাসের হার ৬৩.৯৫% এবং ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগে ৪৭.০৫%।
গতবছর মানবিক বিভাগে পাস করেছিল ৩৯.০১% পরীক্ষার্থী। আর বিজ্ঞান বিভাগে পাসের হার ছিলো ৫৩.৮৮% এবং ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগে ৪৯.৫৬%।
গতবছরের ন্যায় এবছরও ফলাফলে ছেলেদের চেয়ে ভালো ফলাফল করেছে মেয়েরা। এবছরও পাশের হার এবং জিপিএ-৫ প্রাপ্তিতে দুটোতেই ছেলেদের পেছনে ফেলেছে মেয়েরা। ৫৩ জন জিপিএ-৫ প্রাপ্তের মধ্যে বিজ্ঞান বিভাগে পেয়েছেন মাত্র ২৪ জন, মানবিক বিভাগে মাত্র ১৬ জন আর ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগে মাত্র ১৩ জন শিক্ষার্থী।
গতবছর ২০৬ জন জিপিএ-৫ প্রাপ্তের মধ্যে বিজ্ঞান বিভাগে পেয়েছিলো ৯০ জন, মানবিক বিভাগে ৬৩ জন আর ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগে পেয়েছিলো ৫৩ জন শিক্ষার্থী।
মানবিক বিভাগ থেকে এবছর ৭,৭১৭ শিক্ষার্থীর মধ্যে পরীক্ষায় অংশ নেয় ৭,৬০২ জন। যেখানে পাস করেছে মাত্র ২,৮১৯ জন। পাশের হার ৩৭.০৮%। জিপিএ-৫ পেয়েছে মাত্র ১৬ জন। এর মধ্যে ছেলে ১ জন এবং মেয়ে ১৫ জন। এবছর মানবিকে ২,৭০৯ জন ছেলের মধ্যে পরীক্ষায় অংশ নেয় ২,৬৬৯ জন। যেখানে পাশ করেছে মাত্র ৮৮১ জন। পাশের হার ৩৩.০১%। জিপিএ-৫ পেয়েছে মাত্র ১ জন। আর ৫,০০৮ জন মেয়ে পরীক্ষার্থীর মধ্যে পরীক্ষায় অংশ নেয় ৪,৯৩৩ জন। যেখানে পাশ করেছে ১,৯৩৮ জন। পাশের হার ৩৯.২৯%। জিপিএ-৫ পেয়েছে ১৫ জন।
গতবছর মানবিক বিভাগ থেকে ৮ হাজার ১৪৪ শিক্ষার্থীর মধ্যে পরীক্ষায় অংশ নেয় ৮ হাজার ৪৬ জন। যেখানে পাস করেছিলো ৩ হাজার ১৩৯ জন। পাশের হার ৩৯.০১%। জিপিএ-৫ পেয়েছিলো ৬৩ জন। এর মধ্যে ছেলে ৭ জন এবং মেয়ে ৫৬ জন। গতবছর মানবিকে ৩ হাজার ১০৬ জন ছেলের মধ্যে পরীক্ষায় অংশ নেয় ৩ হাজার ৭২ জন। যেখানে পাশ করেছিলো মাত্র ১ হাজার ৯০ জন। পাশের হার ছিলো ৩৫.৪৮%।জিপিএ-৫ পেয়েছিলো মাত্র ৭ জন। আর ৫ হাজার ৩৮ জন মেয়ের মধ্যে পরীক্ষায় অংশ নিয়েছিল ৪ হাজার ৯৭৪ জন। যেখানে পাশ করে ২ হাজার ৪৮ জন। পাশের হার ছিলো ৪১.১৯%। জিপিএ-৫ পেয়েছিলো ৫৬জন।
ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগ থেকে এবছর ২,৭০০ শিক্ষার্থীর মধ্যে পরীক্ষায় অংশ নেয় ২,৬৪৮ জন। যেখানে পাস করেছে ১,২৪৬ জন। পাশের হার ৪৭.০৫%। জিপিএ-৫ পেয়েছে মাত্র ১৩ জন। এর মধ্যে ছেলে ৫ জন এবং মেয়ে ৮ জন। এবছর ব্যবসায় শিক্ষায় ১,২৯৮ জন ছেলে পরীক্ষার্থীর মধ্যে পরীক্ষায় অংশ নেয় ১,২৭০ জন। যেখানে পাশ করেছে মাত্র ৫৫১ জন। পাশের হার ৪৩.৩৯%। জিপিএ-৫ পেয়েছে ৫ জন। আর ১,৪০২ জন মেয়ের মধ্যে পরীক্ষায় অংশ নেয় ১,৩৭৮ জন। যেখানে পাশ করেছে ৬৯৫ জন। পাশের হার ৫০.৪৪%। জিপিএ-৫ পেয়েছে ৮ জন।
গতবছর ব্যবসায় শিক্ষা বিভাগ থেকে ২ হাজার ৯৫৪ শিক্ষার্থীর মধ্যে পরীক্ষায় অংশ নেয় ২ হাজার ৯২২ জন। যেখানে পাস করে ১ হাজার ৪৪৮ জন। পাশের হার ছিলো ৪৯.৫৬%। জিপিএ-৫ পেয়েছিলো ৫৩ জন। এর মধ্যে ছেলে ২৫ জন এবং মেয়ে ২৮ জন। গতবছর ব্যবসায় শিক্ষায় ১ হাজার ৪৪৫ জন ছেলের মধ্যে পরীক্ষায় অংশ নেয় ১ হাজার ৪২৮ জন। যেখানে পাশ করেছিলো মাত্র ৬৪৩ জন। পাশের হার ছিলো ৪৫.০৩%। জিপিএ-৫ পেয়েছিলো ২৫ জন। আর ১ হাজার ৫০৯ জন মেয়ের মধ্যে পরীক্ষায় অংশ নেয় ১ হাজার ৪৯৪ জন। যেখানে পাশ করেছিলো ৮০৫ জন। পাশের হার ছিলো ৫৩.৮৮%। জিপিএ-৫ পেয়েছিলো ২৮ জন।
বিজ্ঞান বিভাগ থেকে এবছর ১,৮৬০ শিক্ষার্থীর মধ্যে পরীক্ষায় অংশ নেয় ১,৮৩১ জন। যেখানে পাস করেছে ১,১৭১ জন। পাশের হার ৬৩.৯৫%। জিপিএ-৫ পেয়েছে মাত্র ২৪ জন। এর মধ্যে ছেলে ৬ জন এবং মেয়ে ১৮ জন। এবছর বিজ্ঞান বিভাগে ৭১৭ জন ছেলে পরীক্ষার্থীর মধ্যে পরীক্ষায় অংশ নেয় ৭০৯ জন। যেখানে পাশ করেছে ৪৮৩ জন। পাশের হার ৬৮.১২%। জিপিএ-৫ পেয়েছে মাত্র ৬ জন। আর ১,১৪৩ জন মেয়ে পরীক্ষার্থীর মধ্যে পরীক্ষায় অংশ নেয় ১,১২২ জন। যেখানে পাশ করেছে ৬৮৮ জন। পাশের হার ৬১.৩২%। জিপিএ-৫ পেয়েছে ১৮ জন।
গতবছর বিজ্ঞান বিভাগ থেকে ১ হাজার ৭৪৫ শিক্ষার্থীর মধ্যে পরীক্ষায় অংশ নেয় ১ হাজার ৭৩০ জন। যেখানে পাস করেছিলো ১ হাজার ১৭৬ জন। পাশের হার ছিলো ৬৭.৯৮%। জিপিএ-৫ পেয়েছিলো ৯০ জন। এর মধ্যে ছেলে ৩৫ জন এবং মেয়ে ৫০ জন। গতবছর বিজ্ঞান বিভাগে ৬৬৯ জন ছেলের মধ্যে পরীক্ষায় অংশ নেয় ৬৬২ জন। যেখানে পাশ করেছিলো ৪৫৪ জন। পাশের হার ছিলো ৬৮.৫৮%। জিপিএ-৫ পেয়েছিলো ৩৫ জন। আর ১ হাজার ৭৬ জন মেয়ের মধ্যে পরীক্ষায় অংশ নেয় ১ হাজার ৬৮ জন। যেখানে পাশ করেছিলো ৭২২ জন। পাশের হার ছিলো ৬৭.৬০%। জিপিএ-৫ পেয়েছিলো ৫০ জন।