অবশেষে গ্রেফতার ডিজিএফআই স্কোয়াড্রন লিডার হত্যাকারী নোমান

নিজস্ব প্রতিবেদক : সোমবার , ০২ অক্টোবর ২০২৩

চঞ্চল দাশগুপ্ত,কক্সবাজার প্রতিনিধি: আরসা'র শীর্ষ সন্ত্রাসী ও আরসা প্রধান আতাউল্লাহ’র একান্ত সহকারী এবং অর্থ সমন্বয়ক মোহাম্মদ এরশাদ ওরফে নোমান চৌধুরী ২০১৬ সালের ৯ অক্টোবরে মায়ানমার বর্ডার গার্ড পুলিশ (বিজিপি) এর মংডু অঞ্চলের সদর দপ্তরে হামলায় সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করে ১৪ জন জওয়ান হত্যার ঘটনায় সরাসরি অংশগ্রহন করে এবং অস্ত্রও লুট করে।


এরপর ২০২২ সালের ১৪ নভেম্বর কক্সবাজারের উখিয়ার সীমান্তবর্তী ঘুমধুম ইউনিয়নের ২নং ওয়ার্ডের তুমব্রু বাজার সংলগ্ন কোনারপাড়া গ্রামে যৌথ অভিযানের সময় ডিজিএফআই কক্সবাজার শাখার স্কোয়াড্রন লিডার রিজওয়ান রুশদি হত্যাকান্ড এবং র‌্যাবের কনস্টেবল সোহেল বড়ুয়া গুরুতর আহতের হামলায় সরাসরি অংশগ্রহণ করে আরসার দুর্ধর্ষ নোমান চৌধুরী।
মোস্ট ওয়ান্টেড আরসা'র সেই শীর্ষ সন্ত্রাসী দুর্ধর্ষ মোহাম্মদ এরশাদ ওরফে নোমান চৌধুরীকে কক্সবাজারের রোহিঙ্গা অধ্যূষিত উখিয়ার কুতুপালং ক্যাম্প থেকে অবশেষে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়েছে র‌্যাব-১৫।


আটক হওয়া আরসা নেতা নোমান নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার ঘুমধুম ইউনিয়ন ২নং ওয়ার্ড এর তুমব্রু কোনারপাড়ার (জিরো লাইন) এলাকার সাব্বির আহমেদ ও আনোয়ার বেগমের পুত্র।
২ অক্টোবর দুপুরে র‌্যাব-১৫ কক্সবাজার ক্যাম্পের গণমাধ্যম শাখার প্রেস বিজ্ঞপ্তিতে গ্রেফতারের বিষয়টি নিশ্চিত করা হয়েছে।


র‌্যাব জানায়,২০২২ সালের ১৪ নভেম্বর কক্সবাজারের উখিয়ার সীমান্তবর্তী ঘুমধুম ইউনিয়নের ২নং ওয়ার্ডের তুমব্রু বাজার সংলগ্ন কোনারপাড়া গ্রামে মায়ানমারের আরসা ও আল ইয়াকিন গ্রুপের বিচ্ছিন্নতাবাদী স্বয়ংক্রিয় অস্ত্রধারী খুনি, লুটেরা, ধর্ষক, ডাকাত, মাদক চোরাকারবারী ও রোহিঙ্গা সন্ত্রাসীদের বিরুদ্ধে গোয়েন্দা সংস্থা ও র‌্যাবের মাদকবিরোধী যৌথ অভিযান চালায়।
উক্ত অভিযানে সন্ত্রাসী গোষ্ঠীর আগ্নেয়াস্ত্র দ্বারা মুহুর্মুহু গুলিবর্ষন ও ধারালো অস্ত্র দিয়ে এলোপাথারি আক্রমণের ফলে অভিযানে থাকা রাষ্ট্রীয় গোয়েন্দা সংস্থার স্কোয়াড্রন লীডার রিজওয়ান রুশদী নৃশংসভাবে হত্যা এবং একই সাথে র‌্যাব সদস্য কনস্টেবল সোহেল বড়ুয়া’কে গুরুতর আহত করা হয়।


উক্ত ঘটনাটি সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যম এবং স্থানীয় ও জাতীয় গণমাধ্যমে প্রকাশ হওয়ার সাথে সাথে সারাদেশে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি হয়।


এই নৃশংস ঘটনা সংঘঠিত হওয়ার পর থেকে পলাতক আসামীদের গ্রেফতারে র‌্যাপিড এ্যাকশন ব্যাটালিয়ন গোপনভাবে কাজ করতে থাকে।


এরই ধারাবাহিকতায় র‌্যাব-১৫ ওই ঘটনার সাথে জড়িত ‘আরাকান রোহিঙ্গা স্যালভেশন আর্মি’ (আরসা) এর শীর্ষ সন্ত্রাসী আসামী হাফেজ নুর মোহাম্মদকে গত ২১ জুলাই এবং আসামী রহিমুল্লাহ প্রকাশ মুছাকে ২৬ সেপ্টেম্বর গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়।


সম্প্রতি র‌্যাব-১৫ বিশ্বস্ত সূত্রে জানতে পারে, উক্ত নৃশংস হত্যাকান্ডের সাথে জড়িত দীর্ঘদিন যাবত পলাতক আসামী নোমান চৌধুরী রোহিঙ্গা অধ্যূষিত উখিয়ার কুতুপালং এলাকায় অবস্থান করছে।


উক্ত তথ্যের ভিত্তিতে ২ অক্টোবর রাত দেড়টায় র‌্যাব-১৫ এর একটি দল উক্ত স্থানে অভিযান চালিয়ে মোহাম্মদ এরশাদ ওরফে নোমান চৌধুরী (২৭)কে গ্রেফতার করতে সক্ষম হয়।
প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে ধৃত আসামী মোহাম্মদ এরশাদ ওরফে নোমান চৌধুরী স্বীকার করে যে, গত ১৪ নভেম্বর সামরিক গোয়েন্দা সংস্থা এবং র‌্যাব-১৫ এর যৌথ অভিযানের সময় ডিজিএফআই স্কোয়াড্রন লিডার রিজওয়ান রুশদি হত্যাকান্ড এবং র‌্যাবের কনস্টেবল সোহেল বড়ুয়া গুরুতর আহতের হামলায় সরাসরি অংশগ্রহণ করে।


সে আরও স্বীকার করে যে, আমেরিকা প্রবাসী পিতার মাধ্যমে আরসা প্রধান আতাউল্লাহ’র সাথে তার পরিচয় হয়।


আরসার হয়ে দীর্ঘদিন সক্রিয়ভাবে কাজ করার ফলস্বরূপ আতাউল্লাহ তাকে তার একান্ত সহকারী ও সার্বক্ষনিক অস্ত্রধারী বডিগার্ড হিসেবে নিয়োগ প্রাপ্ত ছিল।


এছাড়াও হুন্ডির মাধ্যমে মধ্যপ্রাচ্য এবং বিশ্বের বিভিন্ন দেশ থেকে আরসার জন্য প্রেরিত অর্থের প্রধান সমন্বয়ক হিসেবে কাজ করে এবং প্রাপ্ত অর্থ আরসা’র বিভিন্ন ক্যাম্প কমান্ডারদের মাঝে পৌঁছে দেয় ।


সে আরও জানায়,আরসা’র জন্য ইউনিফরমের কাপড়, ঔষধ সামগ্রী, ওয়াকিটকি, ল্যান্ড মাইন এবং অন্যান্য সরঞ্জামাদি কেনা-কাটা করে।


এছাড়া সে আরসা প্রধান আতাউল্লাহ’র নেতৃত্বে রোহিঙ্গাদের মাধ্যমে বাংলাদেশকে অস্থিতিশীল করার অন্যতম ব্যক্তি হিসেবে কাজ করে।


এছাড়াও ২০১৬ সালের ৯ অক্টোবরে মায়ানমার বর্ডার গার্ড পুলিশ (বিজিপি) এর মংডু অঞ্চলের সদর দপ্তরে হামলায় সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করে অস্ত্র লুট ও ১৪ জন জওয়ান হত্যার ঘটনায় সরাসরি জড়িত ছিল বলে স্বীকার করে।


র‌্যাব আরও জানায়, গ্রেফতারকৃত শীর্ষ সন্ত্রাসী দুর্ধর্ষ মোহাম্মদ এরশাদ ওরফে নোমান চৌধুরীর বিরুদ্ধে আইনানুগ ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে।


আর্কাইভ