ঢাকা-আরিচা মহাসড়কে তিন চাকার যানবাহন এখন ‘বিষফোঁড়া’

নিজস্ব প্রতিবেদক : শনিবার , ১৬ মে ২০২৬

মোঃ লুৎফর রহমান, মানিকগঞ্জ : ঢাকা-আরিচা মহাসড়কে আইন অমান্য করে অবাধে চলাচল করছে ইজিবাইক, সিএনজিচালিত অটোরিকশা, নসিমন, করিমন ও ব্যাটারিচালিত রিকশার মতো তিন চাকার নিষিদ্ধ যানবাহন। উচ্চ আদালতের নিষেধাজ্ঞা এবং প্রশাসনের দফায় দফায় কঠোর অবস্থানের পরও এই মহাসড়কে তিন চাকার যানের দাপট থামানো যাচ্ছে না। প্রতিনিয়ত ঘটছে ছোট-বড় দুর্ঘটনা, ঝরছে প্রাণ। ফলে স্থানীয় বাসিন্দা এবং দূরপাল্লার চালকদের কাছে এই তিন চাকার যানবাহন এখন ঢাকা-আরিচা মহাসড়কের বড় ‘বিষফোঁড়া’ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

​২০১৫ সালে দেশের ২২টি জাতীয় মহাসড়কে থ্রি-হুইলার বা তিন চাকার যান চলাচল নিষিদ্ধ করে সরকার। এরপর উচ্চ আদালত থেকেও এই নিষেধাজ্ঞা কঠোরভাবে বজায় রাখার নির্দেশ দেওয়া হয়। তবে ঢাকা-আরিচা মহাসড়কের বারো বাড়িয়া, নয়াডিঙ্গী,গোলড়া ও মানিকগঞ্জ বাসস্ট্যান্ড এলাকা ঘুরে দেখা যায় ভিন্ন চিত্র। দূরপাল্লার দ্রুতগামী বাসের পাশাপাশি পাল্লা দিয়ে চলছে এসব ধীরগতির যানবাহন। অনেক সময় উল্টো পথেও (রং সাইড) চলতে দেখা যায় এদের, যা দুর্ঘটনার ঝুঁকি বহুগুণ বাড়িয়ে দিচ্ছে।

​দূরপাল্লার বাস চালকদের অভিযোগ, ঢাকা-আরিচা মহাসড়কে গাড়ির গতি এমনিতেই বেশি থাকে। হঠাৎ করে কোনো মোড় বা লিঙ্ক রোড থেকে গতি নিয়ন্ত্রণ না করেই এই তিন চাকার যানগুলো মহাসড়কে উঠে পড়ে। এদের কোনো লুকিং গ্লাস বা সঠিক সিগন্যাল লাইট থাকে না। ফলে পেছন থেকে আসা দ্রুতগতির ভারী যানবাহনের পক্ষে তাৎক্ষণিক ব্রেক করা অসম্ভব হয়ে পড়ে, যার শেষ পরিণতি হয় ভয়াবহ দুর্ঘটনা।

 

এ বিষয়ে ঢাকা- আরিচা মহাসড়কের পাশে নয়াডিঙ্গিতে অবস্থিত তারাসিমা এ্যাপারেলস লিমিটেড কোম্পানিতে কর্মরত মোহাম্মদ মাজহারুল হায়দার  বলেন, ​"হাইওয়ে পুলিশ মাঝে মাঝে অভিযান চালিয়ে কিছু গাড়ি আটক করে জরিমানা করে ঠিকই, কিন্তু পরদিনই আবার পরিস্থিতি আগের মতো হয়ে যায়। এই রুটে তিন চাকার যান চলাচল বন্ধ করতে না পারলে ঢাকা-আরিচা মহাসড়ককে কখনোই নিরাপদ করা সম্ভব নয়।"

​মহাসড়কে কেন তিন চাকার যান চালাচ্ছেন—এমন প্রশ্নের জবাবে কয়েকজন ইজিবাইক চালক জানান, মহাসড়কের পাশে কোনো বিকল্প বা সার্ভিস লেন না থাকায় বাধ্য হয়েই তাদের মূল সড়কে উঠতে হয়। এছাড়া স্থানীয় যাত্রীদের একাংশের দাবি, স্বল্প দূরত্বের যাতায়াতের জন্য মহাসড়কের পাশেই তাদের মূল গন্তব্য থাকে, যেখানে বড় বাসগুলো থামে না। ফলে বাধ্য হয়েই তারা জীবনের ঝুঁকি নিয়ে এসব ঝুঁকিপূর্ণ যানবাহনে চড়ছেন।

​এ বিষয়ে গোলড়া  হাইওয়ে থানার ওসি দেওয়ান কউসিক জানান, মহাসড়কে তিন চাকার যান চলাচল বন্ধে নিয়মিত কাজ করছি।নিয়ন্ত্রণে আনতে প্রতিদিন বিপুল সংখ্যক থ্রি-হুইলার জব্দ এবং মামলা দেওয়া হচ্ছে। তবে মহাসড়কের সাথে যুক্ত অসংখ্য সংযোগ সড়ক থাকায় চালকরা পুলিশের চোখ ফাঁকি দিয়ে মূল সড়কে উঠে পড়ে বলে জানান তিনি। 

 

​সচেতন মহলের মতে, শুধু জরিমানা বা সাময়িক অভিযান চালিয়ে এই ‘বিষফোঁড়া’ দূর করা সম্ভব নয়। এর জন্য প্রয়োজন হাইওয়ে পুলিশের স্থায়ী ও কঠোর নজরদারি, স্থানীয় রাজনৈতিক সদিচ্ছা এবং মহাসড়কের পাশে দ্রুত ‘সার্ভিস লেন’ নির্মাণ করা। অন্যথায়, ঢাকা-আরিচা মহাসড়কে লাশের মিছিল আরও দীর্ঘ হতেই থাকবে।


আর্কাইভ