পাকিস্তান থেকে বাংলাদেশে আসার পর বাধার মুখে পড়েন রুনা লায়লা

নিজস্ব প্রতিবেদক : রবিবার , ০১ ডিসেম্বর ২০২৪

গানে গানে কিংবদন্তি রুনা লায়লা পূর্ণ করছেন ছয় দশক। দেশ–বিদেশে উজ্জ্বল করেছেন বাংলাদেশের নাম। দেশের শিল্পীদের পাশাপাশি উপমহাদেশীয় সংগীতের বরেণ্য শিল্পীদের সঙ্গে রয়েছে তাঁর চমৎকার বন্ধুত্ব। বয়সে ছোট যাঁরা, তাঁদের অনেকে এই শিল্পীকে মানেন আদর্শ। অথচ দেশের সংগীতের বরেণ্য এই শিল্পীকে একবার বয়কট করা হয়েছিল। তাঁর সঙ্গে মঞ্চে ও একসঙ্গে কোনো গান গাইতে চাননি সমসাময়িক শিল্পীদের অনেকে। তবে এ নিয়ে মোটেও বিচলিত ছিলেন না রুনা লায়লা। আপন মনে তিনি গান গেয়ে গেছেন।

রুনার মতে, ‘সবাই দেখল, আমি ছবিতে গান করছি, কেউ বয়কট মানছে না। মিউজিশিয়ানরাও বাজাচ্ছে। মিউজিক ডিরেক্টররাও কাজ করছে। সত্যি বলতে, শ্রোতার ভালোবাসায় সেই বয়কটও টেকেনি।’ সম্প্রতি প্রথম আলোর সঙ্গে আলাপে তেমনটাই জানান উপমহাদেশীয় সংগীতের বরেণ্য এই শিল্পী।

জীবনের প্রথম দিক পাকিস্তানে কেটেছে রুনা লায়লার। গানে গানে ব্যস্ত সময় কাটিয়েছেন দেশটিতে। বাবার চাকরির সূত্রে তিনি সেখানে ছিলেন। সত্তরের দশকের মাঝামাঝি বাংলাদেশে ফিরে আসেন। ফিরে আসার পর অনেকে তাঁকে শুভকামনা জানালেও কেউ কেউ রুনা লায়লার সাফল্যে ঈর্ষান্বিতও ছিলেন। তাই বারবার বাধার মুখে পড়েছিলেন।

কীভাবে এসব বাধা কাটিয়ে ওঠেছেন, এমন প্রশ্নে রুনা লায়লা প্রথম আলোকে বলেন, ‘জীবন মানে ইতিবাচকভাবে সবকিছু দেখা। নিজে ইতিবাচক থাকলে সবকিছুই ঠিক। মনের জোর থাকতে হয়। মনের জোর থাকলে অনেক বাধা অতিক্রম করা যায়। আমার জীবন হচ্ছে, আমার গান ও পরিবার। পরিবার নিয়েই আমার জীবনটা। একটা কথা হচ্ছে, বাধা অনেক এসেছে জীবনে; কিন্তু আমাকে কারও কাছে কোনো দিন যেচে কাজ চাইতে হয়নি। “আমাকে দিয়ে গান গাওয়াও”—এটা বলতে হয়নি। আল্লাহর রহমতে সবাই আমার নিজের কাছেই এসেছে গানের প্রস্তাব নিয়ে। বাধা এলে ওপরওয়ালা বিচার করেন, তিনি একজন তো আছেন, সব দেখেন।’


আর্কাইভ