ঘোষিত নীরব এলাকায় হর্ণ বাজানো নিরুৎসাহিতকরণ কর্মসূচির উদ্বোধন

নিজস্ব প্রতিবেদক : বুধবার , ০৭ মে ২০২৫

তরিকুল ইসলাম,প্রতিনিধি : বাংলাদেশের ভয়াবহ শব্দ দূষণ সমস্যা মোকাবিলায় আজ মঙ্গলবার বিকেল ৩টায় রাজধানীর গুলশান-২ গোলচত্বরে। “ঘোষিত নীরব এলাকায় হর্ণ বাজানো নিরুৎসাহিতকরণ কর্মসূচি”র ফেজ ৪ এর আনুষ্ঠানিক উদ্বোধন করেন ঢাকা উত্তর সিটি কর্পোরেশনের মাননীয় প্রশাসক মোহাম্মদ এজাজ।

 

উদ্বোধনী বক্তব্যে তিনি বলেন, “বাংলাদেশের অন্যতম প্রধান প্রধান দূষণের মধ্যে শব্দ দূষণ এক ভয়াবহ রূপ নিয়েছে। এটি এখনই নিয়ন্ত্রণে না আনলে ভবিষ্যৎ প্রজন্ম মারাত্মক স্বাস্থ্যঝুঁকিতে পড়বে। এই উদ্যোগের মাধ্যমে আমরা একটি সুস্থ, সচেতন ও শব্দদূষণমুক্ত বাংলাদেশ গড়ার দিকে এগিয়ে যাচ্ছি।”সকল শ্রেণির মানুষকে এই কাজে সহযোগিতা করার জন্য অনুরোধ জানিয়েছেন। 

 

অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশের সর্ববৃহৎ পরিবেশবাদী যুব সংগঠন গ্রীন ভয়েস-এর প্রধান সমন্বয়ক ও বাংলাদেশ পরিবেশ আন্দোলন (বাপা)-এর সাধারণ সম্পাদক মোঃ আলমগীর কবির। তিনি বলেন, “শব্দ দূষণ এখন এক সামাজিক ব্যাধিতে পরিণত হয়েছে। আমরা যদি এখনই সচেতন না হই, তাহলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে উঠবে। এই সচেতনতা মূলক কর্মসূচি শব্দ দূষণ নিয়ন্ত্রণে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখবে বলে তিনি মনে করেন।”

 

এই সময় উপস্থিত ছিলেন বাপা’র যুগ্ম সম্পাদক ও ক্যাপস-এর চেয়ারম্যান অধ্যাপক ড. আহমেদ কামরুজ্জামান মজুমদার, বাপা’র যুগ্ম সম্পাদক আমিনুর রসুল, গ্রীন সেভার্স-এর প্রতিষ্ঠাতা আহসান রনি এবং কর্মসূচির প্রশিক্ষক ও পরিবেশ অধিদপ্তরের প্রতিনিধি মহিবুর রহমান।

 

এছাড়া অনুষ্ঠানে অংশ নেন গ্রীন ভয়েস-এর সহ-সমন্বয়ক তরিকুল ইসলাম রাতুল, শাকিল কবির, আরিফুর রহমান আরিফ, ফাহমিদা নাজনীন, কেন্দ্রীয় কার্যনির্বাহী সদস্য স্বপন মাহমুদসহ প্রায় ৩০০ জন স্বেচ্ছাসেবক। অনুষ্ঠানটি সঞ্চালনা করেন গ্রীন ভয়েস-এর সহ-সমন্বয়ক হুমায়ুন কবির সুমন।

 

এ পর্বে গুলশান-১, গুলশান-২, বিজয় সরণি, খামারবাড়ি মোড় এবং ধানমণ্ডি-২৭ (রাপা প্লাজা) এলাকায় এই সচেতনতামূলক কার্যক্রম পরিচালিত হবে বলে জানা গেছে।

 

উল্লেখ্য, শব্দদূষণ (নিয়ন্ত্রণ) বিধিমালা-২০০৬ অনুযায়ী হাসপাতাল, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও সরকারি অফিস এলাকা ‘নীরব এলাকা’ হিসেবে ঘোষিত, যেখানে হর্ণ বাজানো একটি দণ্ডনীয় অপরাধ।

 

আসুন আমরা সচেতন হই, অন্যদের সচেতন করি। শব্দ দূষণ রোধ করি, বধির মুক্ত বাংলাদেশ গড়ি।


আর্কাইভ