বড় পর্দায় আসছে পরীমনির ‘ডোডোর গল্প’

নিজস্ব প্রতিবেদক : মঙ্গলবার , ২৮ অক্টোবর ২০২৫

প্রায় দুই বছর বিরতির পর আবারও বড়পর্দায় ফেরার ঘোষণা দিয়েছিলেন জনপ্রিয় চিত্রনায়িকা পরীমনি। মাতৃত্ব ও পারিবারিক জীবনে ব্যস্ত থাকার কারণে বেশ কিছুদিন অভিনয় থেকে দূরে ছিলেন তিনি। সেই বিরতি ভাঙেন ‘ডোডোর গল্প’ সিনেমার মাধ্যমে। অবশেষে জানা গেল, আগামী রোজার ঈদেই মুক্তি পেতে যাচ্ছে পরীমনির এই প্রত্যাবর্তনের ছবি।

সিনেমাটির সহপ্রযোজক নাজমুল হক ভূঁইয়া জানিয়েছেন, ‘ডাবিং ও ব্যাকগ্রাউন্ড মিউজিক (বিজিএম) শেষ হয়েছে। এখন কেবল বাকি কালার গ্রেডিং ও এডিটিংয়ের কাজ। ইনশাআল্লাহ সব সম্পন্ন করেই আমরা রোজার ঈদে ছবিটি মুক্তি দেব।’ ২০২৩ সালের অক্টোবরে শুরু হয়েছিল ‘ডোডোর গল্প’র শুটিং। চলতি বছরের শুরুতে এক ভিডিওবার্তায় পরীমনি জানিয়েছিলেন, দীর্ঘ এক বছর চার মাস ২৩ দিন পর সিনেমাটির শুটিং শেষ করেছেন তিনি।

ছবিতে পরীমনি অভিনয় করেছেন কেন্দ্রীয় চরিত্র ‘কাজল চৌধুরী’র ভূমিকায়। তার বিপরীতে রয়েছেন জনপ্রিয় অভিনেতা সাইমন সাদিক, যিনি ‘রায়হান’ নামের এক ফটোগ্রাফারের চরিত্রে অভিনয় করেছেন। পরীমনি বলেন, ‘এই সিনেমাটি আমার কাছে খুব স্পেশাল। মাতৃত্বকালীন বিরতির পর এই ছবির মাধ্যমেই আবার ক্যামেরার সামনে দাঁড়িয়েছি। তাই নিজের সর্বোচ্চটুকু দেওয়ার চেষ্টা করেছি। ডোডোর গল্পর সঙ্গে আমার এক ধরনের আবেগ জড়িয়ে আছে। আশা করছি দর্শকরা ছবিটি ভালোবাসবেন।’

সিনেমাটি পরিচালনা করেছেন রেজা ঘটক। কাহিনী, চিত্রনাট্য ও সংলাপ লিখেছেন তিনিই। নির্মাতার ভাষায়, ‘একজন মায়ের সংগ্রামের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশের কৃষি ও সমাজজীবনের প্রতিচ্ছবি ফুটিয়ে তোলার চেষ্টা করেছি এ সিনেমায়। কাজল চৌধুরীর জীবনের প্রায় বিশ বছরের জার্নি উঠে এসেছে গল্পে।’

ডোডোর গল্প ২০২১-২২ অর্থবছরে পেয়েছিল ৬০ লাখ টাকার সরকারি অনুদান। এতে অংশ নিয়েছেন ৮৭ জন শিল্পী এবং শুটিং হয়েছে ২৫টিরও বেশি লোকেশনে। প্রযোজক নাজমুল হক ভূঁইয়া বলেন, ‘এটা এক আত্মনির্ভরশীল মায়ের দুই দশকের দীর্ঘ লড়াইয়ের গল্প, যেখানে সে হারানো সন্তানকে ফিরে পায়। আমরা ছবিটি অনেক যত্ন নিয়ে তৈরি করেছি। বিশ্বাস করি, দর্শকের হৃদয়ে জায়গা করে নেবে।’ এদিকে জন্মদিন উদযাপন করতে বর্তমানে মালয়েশিয়ায় রয়েছেন পরীমনি। তার হাতে আপাতত নতুন কোনো সিনেমার কাজ নেই। অন্যদিকে নায়ক সাইমন সাদিক এখন যুক্তরাষ্ট্রে অবস্থান করছেন; গত বছর আগস্টে তিনি দেশ ছাড়েন।

২০১৫ সালে ‘ভালোবাসা সীমাহীন’ সিনেমার মাধ্যমে চলচ্চিত্রে আত্মপ্রকাশ পরীমনির। তারপর একে একে ‘রূপবান’, ‘স্বপ্নজাল’, ‘বিশ্বসুন্দরী’, ‘গুণিন’, ‘মা’। প্রতিটি সিনেমাতেই নিজেকে ভেঙে নতুন করে গড়েছেন। অভিনয়ে যতটা পরিশ্রমী, ততটাই সচেতন নিজের ভাবমূর্তি নিয়ে।


আর্কাইভ