বুড়িচংয়ে ১২ দিনের বৃষ্টিপাতে সদরসহ গ্রামীণ সড়কের স্মরণ কালের নাজুক পরিস্থিতি বিরাজ করছে

নিজস্ব প্রতিবেদক : রবিবার , ২৭ July ২০২৫

আলমগীর হোসেন, বুড়িচং,  কুমিল্লা

কুমিল্লার  বুড়িচংয়ে গত  ১৭ জুলাই থেকে  গতকাল ২৭ জুলাই ১২ দিনের  হালকা ও ভারী বৃষ্টিপাতে উপজেলা সদরসহ বিভিন্ন গ্রামীণ সড়কের  নাজুক পরিস্থিতি বিরাজ করছে। বুড়িচং উপজেলার  ৯ টি ইউনিয়ন যথাক্রমে রাজাপুর, বাকশীমূল, বুড়িচং সদর, ষোলনল, পীরযাত্রাপুর, ময়নামতি, মোকাম, ভারেল্লা (উ.) ও ভারেল্লা  (দ) ইউনিয়নের বেশীর ভাগ গ্রামীণ সড়ক গুলোতে বৃষ্টির পানি ও গত ১২ দিনের  হালকা ও ভারী বৃষ্টিপাতে জলাবদ্ধতা সৃষ্টি হয়ে  জনগণ ও গাড়ি চলাচলে ব্যাপক অসুবিধার মধ্যে দিনাতিপাত  করতে   হচ্ছে । 

বিশেষ করে ২০২৪ সালের ভয়াবহ বন্যায় কুমিল্লা মিরপুর ভায়া বুড়িচং সড়কে বড় বড় গর্ত ও খানা খন্দকের সৃষ্টি হলেও গত কয়েক দিনের হালকা ও ভারী   বৃষ্টিপাতে বুড়িচং উপজেলা সদরের বুড়িচং এরশাদ ডিগ্রি কলেজ গেইট  হয়ে বুড়িচং নিউমার্কেট পেরিয়ে উত্তর  বাজার পর্যন্ত সমস্ত সড়কে বন্যা পরবর্তী আরো  বড় বড় গর্ত ও খানা খন্দকের সৃষ্টি হয়ে যানবাহন চলাচলে স্মরন কালের সবচেয়ে নাজুক পরিস্থিতি বিরাজ করছে।  সড়কের বিভিন্ন বড় বড় গর্তের স্থানে লাল নিশানা টাঙ্গিয়ে দেয়া হয়েছে। অনেকে বাধ্য হয়ে বাজারের সড়ক বাদ  বিকল্প সড়ক হিসেবে বুড়িচং  মাদ্রাসা ও অন্য  সড়ককে বেচে নিয়েছে।

 এছাড়া,অতি সম্প্রতি এ সড়কটিকে ৪ লাইনে উন্নীত করার জন্য   বুড়িচং ও ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলার এলিট শ্রেণী ও সাধারণ জনগণ  বিভিন্ন স্থানে মানব বন্ধন ও   সম্পন্ন করেছে। কিন্তু কাজের কাজ কিছুই হচ্ছে না।

জনসংখ্যার বৃদ্ধির সাথে সাথে যেভাবে যানবাহন ও গাড়ি ঘোড়ার চাপ এ সড়কটিতে বৃদ্ধি পাচ্ছে ৪ লাইনে উন্নীত কিংবা প্রয়োজনীয়  সংস্কার করা না হলে জনগণ ও যানবাহন চলাচলের অযোগ্য হয়ে পড়বে ব্যস্ততম এ সড়কটি।  তাই, কুমিল্লা মিরপুর ভায়া বুড়িচং সড়কটিকে ৪ লাইনে উন্নীত করা জরুরী  হয়ে পড়েছে। 

এছাড়া, বুড়িচং উপজেলা  সদর হতে ময়নামতি, মোকাম, ভারেল্লা (উ) ও ভারেল্লা (দ.) ইউনিয়নে  সহজে যাতায়াত করার একমাত্র সেতুবন্ধন হিসেবে বিবেচিত হয়ে আসছে গোবিন্দপুর রামপুর সেতুটি। কিন্তু বর্তমানে প্রবল বৃষ্টিপাত ও ভারত থেকে নেমে আসা পাহাড়ী ঢলে তীব্র পানির স্রোত প্রবাহের ফলে গোবিন্দপুর রামপুর সেতুটি অনেকটা নড়বড়ে হয়ে পড়ছে। ভারী ট্রাক ও ট্রাক্টর থাক দূরের কথা সধারণ সিএনজি ও অটো রিক্সা চলাচলে এ সেতু তথা ব্রীজটিতে কম্পন সৃষ্টি হয়। 

গোবিন্দপুর-রামপুর সেতুটি মেরামত করার পাশাপাশি উপজেলার রাজাপুর,  বাকশীমূল, ষোলনল, পীরযাত্রাপুর, মোকাম, ময়নামতি, ভারেল্লা  (উত্তর) ভারেল্লা (দ)  ইউনিয়নের বিভিন্ন গ্রামীন সড়কের  বন্যা পরবর্তী  গর্ত ও খানা খন্দক সৃষ্টি হওয়া  সড়কগুলির মেরামতের কাজ হাতে না নিলে জনগণ ও যানবাহন চলাচলে আরো  দুর্বিষহ অবস্থার সৃষ্টি হবে। 

এ লক্ষ্যে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য  সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ এগিয়ে আসা দরকার বলে মনে করছেন এলাকার জনসাধারণ। 

এ বিষয়ে উপজেলা প্রকৌশলী আলিফ আহমেদ অক্ষরের সাথে মুঠোফোনে জানতে চাইলে তিনি বলেন- গোবিন্দপুর-রামপুর সেতুটি মেরামতের বিষয়টি টেন্ডার প্রক্রিয়া শেষে  পানি উন্নয়ন বোর্ড কাজ করবে। 

বুড়িচং সদর,জরইন, শংকুচাইল সড়ক সহ অন্যান্য গ্রামীণ সড়ক  উন্নয়ন ও প্রশস্তকরণের কাজ রিটেন্ডারের  মাধ্যমে  শ্রীঘ্রই শুরু করা হবে বলে জানান তিনি।

এদিকে, বুড়িচং উপজেলার রাজাপুর   ইউনিয়নের গুনগুর নদী লড়িবাগ ও বারেশ্বর  এলাকায় গিয়ে দেখা যায়, ঘুংঘুর নদীর প্রবল স্রোতের সাথে কচুরীপানা সহ পাহাড়ী রংয়ের মাটি  আবর্জনা নিয়ে ধেয়ে  আসছে ভারতীয় পানি।  

এসব পানি পূর্বদিক থেকে প্রবল গতিতে পশ্চিম দিকে   বুড়িচং ব্রাহ্মণপাড়া উপজেলার বিভিন্ন লোকালয়ে প্রবেশ করছে। এতে কৃষকের ব্যাপক ফসল পানিতে তলিয়ে যাওয়ার পাশাপাশি গ্রামীণ অনেক সড়ক পানিতে  তলিয়ে  যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।


আর্কাইভ