যুদ্ধে বাধাগ্রস্থ হতে পারে বৈদেশিক আয়

নিজস্ব প্রতিবেদক : মঙ্গলবার , ০৩ মার্চ ২০২৬

ইরানে ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের যৌথ হামলা কেন্দ্র করে অশান্ত গোটা মধ্যপ্রাচ্য। এ অস্থিরতা দীর্ঘস্থায়ী হলে সংকীর্ণ হবে বাংলাদেশের শ্রমবাজার। চাপ বাড়বে প্রবাসী আয়ে। অর্থনৈতিক ও সামাজিকভাবে দেশ বড় চাপে পড়তে পারে বলে মনে করছেন বিশ্লেষকরা।

বিশ্লেষকদের মতে, সবচেয়ে বড় ঝুঁকি সরাসরি সামরিক নয়, বরং দেশের জ্বালানি, শ্রম ও বাণিজ্যনির্ভর অর্থনীতির ওপর এর প্রভাব। মূল্যস্ফীতি বৃদ্ধি, রেমিট্যান্স প্রবাহে অনিশ্চয়তা, রপ্তানি খাতের প্রতিযোগিতা কমে যাওয়া ও অভ্যন্তরীণ সামাজিক-রাজনৈতিক চাপ— সব মিলিয়ে পরিস্থিতি জটিল হয়ে উঠতে পারে।সাবেক কূটনীতিক মুন্সি ফয়েজ আহমেদ  বলেন, ‘মধ্যপ্রাচ্যে চলমান যুদ্ধ দীর্ঘায়িত হলে বড় ধরনের প্রভাব পড়বে, এতে কোনো সন্দেহ নেই। ইতোমধ্যে গুরুত্বপূর্ণ সমুদ্রপথে চলাচল ব্যাহত হচ্ছে। জাহাজ ধ্বংসের ঘটনাও ঘটেছে। ফলে ওই পথ দিয়ে পণ্য পরিবহন কমে যেতে পারে।’

তার মতে, প্রথম ও তাৎক্ষণিক প্রভাব পড়বে জ্বালানি বাজারে। তিনি বলেন, ‘তেলের দাম বাড়লে সবকিছুর দাম বাড়ে। পরিবহন, যোগাযোগ ও উৎপাদন—সবখানেই জ্বালানির প্রয়োজন। এতে আমদানি-রপ্তানির খরচ বাড়বে এবং শিল্পকারখানার উৎপাদন ব্যয়ও বাড়বে। এরপর একটি ডোমিনো ইফেক্ট তৈরি হবে, যেখানে একটির পর একটি পণ্যের দাম বাড়তে থাকবে। রমজানে বাজারে দাম বাড়ার প্রবণতার সঙ্গে যুদ্ধ পরিস্থিতি যুক্ত হলে মূল্যস্ফীতি আরও ত্বরান্বিত হবে।’

ইরানের পাল্টা হামলার পর বিশ্বের অন্যতম বৃহৎ তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠান ‘কাতার এনার্জি’ উৎপাদন সাময়িকভাবে বন্ধের ঘোষণা করেছে। ফলে ইউরোপে গ্যাসের দাম প্রায় ৫০ শতাংশ পর্যন্ত বেড়েছে বলে আন্তর্জাতিক বাজার বিশ্লেষণে জানা যায়।

সাবেক আরেক কূটনীতিক আব্দুল হাই  বলেন, ‘হরমুজ প্রণালি দিয়ে জাহাজ চলাচল ব্যাহত হলে তেলের পাশাপাশি এলএনজি সরবরাহেও সংকট তৈরি হতে পারে। কাতার থেকে গ্যাসবাহী ট্যাংকার চলাচল বাধাগ্রস্ত হলে বৈশ্বিক জ্বালানি বাজারে চাপ বাড়বে, যার প্রভাব বাংলাদেশেও পড়বে।’


আর্কাইভ