হুমায়ুন আহমেদ, ভালুকা প্রতিনিধি: ময়মনসিংহের ভালুকায় রাস্তা এইচবিবিকরণ ও মাটি দ্বারা সংস্কার প্রকল্পে মো: লিটন, আ: রাজ্জাক ও পারুল আক্তার নামে ৩ ইউপি সদস্য আর উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মহিদুল ইসলামের বিরুদ্ধে ব্যাপক অনিয়মের অভিযোগ উঠেছে। এই অনিয়মের অভিযোগ স্বীকার করেছেন উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মহিদুল ইসলাম। অভিযোগ প্রমানিত হলে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেয়ার কথা জানিয়েছেন সহকারী কমিশনার (ভুমি) ও এক্সিকিউটিভ ম্যাজিস্ট্রেট ইকবাল হোসাইন।
অনুসন্ধানে জানা গেছে, উপজেলার ডাকাতিয়া ইউনিয়নের হিজলীপাড়া সরকারী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের পাশ দিয়ে যাওয়া রাস্তায় মাটি দ্বারা সংস্কারের জন্য বরাদ্ধকৃত টি আর এর নগদ ১ লক্ষ ২০ হাজার টাকার প্রকল্পের অর্থ উত্তোলন ও প্রকল্পটি সমাপ্ত হয়ে গিয়েছে, কাগজে কলমে এমন তথ্য থাকলেও উক্ত রাস্তাটির কোন সংস্কার হয়নি।
অপরদিকে কাগজে কলমে একই ইউনিয়নের হোসেনপুর রাজ্জাক মেম্বারের বাড়ি থেকে মুক্তিযোদ্ধা নহর আলীর বাড়ি পর্যন্ত রাস্তা কাবিখা/কাবিটা প্রকল্পের আওতায় ৮ মেট্রিক টন চাল বরাদ্ধে ইট দ্বারা ফ্লাট সলিং/ এইচবিবিকরণ করার কথা থাকলেও সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায় রাস্তাটির অর্ধেকের বেশি কাজ সম্পন্ন হয়নি।
কাকতালীয় ভাবে ২টি প্রকল্পের সভাপতি ইউপি সদস্য মো: লিটন ও সাধারণ সম্পাদক ইউপি সদস্যা পারুল আক্তার। দুজনের মতেই তাদের সাথে যুক্ত ছিলেন ইউপি সদস্য আ: রাজ্জাক।
গত অন্তর্বর্তীকালীন সরকারের সময় পাশ হওয়া এই দুই প্রকল্পের কাজ সম্পূর্ণ না হওয়া স্বত্বেও ইতিমধ্যে বিল উঠিয়ে নিয়েছে প্রকল্পের সভাপতি।
উক্ত দুইটি প্রকল্পে সভাপতি ইউপি সদস্য মো: লিটন, সাধারণ সম্পাদক ইউপি সদস্যা পারুল আক্তার আর নেপথ্যে কলকাঠি নেড়েছেন ইউপি সদস্য আ: রাজ্জাক।
প্রকল্প দুইটির সাধারণ সম্পাদক পারুল আক্তার জানিয়েছেন, এলাকার উন্নয়নে গৃহীত ওই প্রকল্প দুটির কাগজে তিনি সই করলেও পরবর্তীতে রাজ্জাক মেম্বারের সাথে যোগশাজসে অনিয়ম হওয়ায় তিনি বিলের কাগজে সই করেন নি। আর একারনে বিল সমন্বয় করতে পারছেনা উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন অফিস।
সরেজমিনে রাস্তা দুইটি পরিদর্শন করতে গেলে অসুস্থতার কারনে লিটন মেম্বার সময় দিতে না পারলেও রাজ্জাক মেম্বার নিজেই মোটরসাইকেল নিয়ে তার বাড়ির পাশে এইচবিবিকরণ রাস্তাটি দেখাতে নিয়ে যান। সেখানে অর্ধেকের বেশি রাস্তার কাজ না হওয়া সম্পর্কে জানতে চাইলে তিনি কোন সদুত্তর দিতে পারেন নি।
পরবর্তীতে রাজ্জাক মেম্বার নিজের ফোন থেকে লিটন মেম্বারকে ফোনে ধরিয়ে দিলে লিটন মেম্বারও কোন সদুত্তর দিতে পারেন নি।
বিষয়টি নিয়ে উপজেলা প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তা মহিদুল ইসলামের কাছে জানতে চাইলে তিনি প্রথমে কয়েকদিন সময় নেন। সময় অতিক্রান্ত হওয়ার পর পুনরায় তার অফিসে গেলে তিনি জানান, মাটি দ্বারা সংস্কার প্রকল্পের অর্থ দিয়ে তিনি একটি স্কুলের মাঠ সংস্কার করিয়েছেন। রাস্তার জন্য বরাদ্ধ হওয়া অর্থ তিনি মাঠ সংস্কারে ব্যবহার করতে পারেন কিনা এই প্রশ্নের জবাবে তিনি এখানে কিছুটা অনিয়ম হয়েছে বলে স্বীকার করেন। অপরদিকে এইচবিবিকরণ রাস্তাটি সম্পন্ন না হওয়ার বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি জানান, বিষয়টি আগামী সপ্তাহে সরেজমিনে পরিদর্শন করে সমাধান করবেন। কাজ ঠিকঠাক না হলে ও পারুল আক্তার যদি সই করে সমন্বয় না করেন তাহলে প্রয়োজনে অর্থ ফেরতের জন্য চিঠি দেবেন।
এ বিষয়ে উপজেলা সহকারী কমিশনার (ভুমি) ইকবাল হোসাইন জানান, এসব বিষয় তদারকি করার দায়িত্ব প্রকল্প বাস্তবায়ন কর্মকর্তার। সেখানে যদি কোন অনিয়ম হয়ে থাকে তাহলে বিধি মোতাবেক ব্যবস্থা নেওয়া হবে বলে আশ্বস্ত করেন এই কর্মকর্তা