প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানকে নিয়ে সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম ফেসবুকে একটি আবেগঘন স্ট্যাটাস দিয়েছেন লক্ষ্মীপুর জেলা ছাত্রদলের সাবেক যুগ্ন সাধারণ সম্পাদক মোহাম্মদ জাহিদ।
ফেসবুক পোস্টে তিনি লেখেন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী, জীবিত অবস্থায় হয়তো কোনোদিন আপনার সামনে দাঁড়ানোর সৌভাগ্য আমার হবে না। এত বছরের সংগ্রাম, ত্যাগ—সবকিছু নিয়েও আমি আপনার কাছে পৌঁছাতে পারিনি। তবে যদি কোনোদিন শুনতে পান, আপনার দলের একজন ত্যাগী কর্মী আর বেঁচে নেই—তখন যদি সম্ভব হয়, আমার কবরের পাশে একবার দাঁড়াবেন। দূর থেকে হলেও আপনার সেই উপস্থিতিটুকুই আমার জীবনের না-পাওয়া সবচেয়ে বড় প্রাপ্তি হয়ে থাকবে।
জাহিদ বলেন, আমি শুধু চেয়েছিলাম একবার আপনাকে কাছ থেকে দেখতে, আপনার হাতে হাত রেখে বলতে—এই পথচলায় আমি ছিলাম, শেষ পর্যন্ত ছিলাম। সেই সুযোগ যদি জীবনে না-ও আসে, মৃত্যুর পর আপনার একটি দোয়া, একটি জিয়ারতই আমার আত্মার শান্তি হয়ে থাকবে। মাননীয় প্রধানমন্ত্রী,
দীর্ঘ ১৭ বছরের রাজপথের লড়াই, নির্যাতন আর ত্যাগ—সবকিছুর শেষে আজ যেন এক গভীর শূন্যতার সামনে দাঁড়িয়ে আছি। যে সংগঠনকে নিজের রক্ত, ঘাম আর যৌবনের সেরা সময় দিয়ে আগলে রেখেছি, সেই সংগঠন থেকেই আজ নিজেকে বঞ্চিত, অবহেলিত আর অচেনা মনে হচ্ছে।
তিনি আরো বলেন, অনেক রাত কেটেছে খোলা আকাশের নিচে, অনেক দিন পেটে ভাত না রেখেও থেকেছি শুধু দলের পতাকাটা বাঁচিয়ে রাখার জন্য। শরীরের ক্ষতগুলো আজও সাক্ষী—কতটা নির্যাতন সহ্য করেছি। তবুও কখনো পিছু হটিনি, কখনো বিশ্বাস হারাইনি। ভেবেছি, একদিন হয়তো এই ত্যাগের মূল্যায়ন হবে, নেতৃত্ব আমাদের চিনবে, আপন করে নেবে। কিন্তু আজ বাস্তবতা বড় নির্মম। যারা একসময় পাশে ছিল না, সংগ্রামের কষ্ট বুঝেনি—তারা আজ দলে জায়গা করে নিয়েছে। আর আমরা, যারা দিন-রাত রাজপথে থেকেছি, তারাই যেন হারিয়ে গেছি ভিড়ের মাঝে। পদ থেকেও বঞ্চিত। পদ-পদবী না পাওয়ার কষ্টটা শুধু ব্যক্তিগত নয়, এটা আত্মসম্মানেরও প্রশ্ন। নিজের পরিবার, নিজের বাবা-মার চোখে তাকাতে কষ্ট হয়—কারণ তারা জানে, আমি কতটা দিয়েছি, আর কতটা ফিরে পেয়েছি। তবুও অভিযোগ নয়, শুধু একটি আকুতি—ত্যাগী কর্মীদের যেন ভুলে যাওয়া না হয়। যারা সত্যিকার অর্থে এই সংগঠনের ভিত্তি গড়ে তুলেছে, তাদের মূল্যায়ন হোক। কারণ একটি দলের শক্তি শুধু শীর্ষে নয়, নিচের সারির সেই নিরব যোদ্ধাদের মাঝেই লুকিয়ে থাকে।
উল্লেখ্য- গত ২ মে লক্ষ্মীপুর জেলা ছাত্রদলের আহবায়ক কমিটিত অনুমোদন দেওয়া হয়। কমিটিতে নিজের নাম না থাকায় তিনি ঐদিনে ফেসবুক লাইভে এসে কান্না কন্ঠে নিজের রাজনৈতিক পথ চলা তুলে ধরেন। জাহিদ জেলা ছাত্রদলের সভাপতি প্রার্থী ছিলেন। এরপর তিনি তার ফেসবুকে প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের কাছে এমন আবেগঘন পোস্ট করেন।