একজন পেনশন দারি সরকারি কর্মকর্তা হিসেবে জীবন অতিবাহিত হয়ে যাচ্ছে সময় সাথে সাথে ও নানা রকম পরিবেশের সাথে তাল মিলিয়ে । আমার স্কুল ও কলেজ জীবনের বহু বন্ধু মহল স্কুল, মাদ্রাসা ও কলেজে শিক্ষকতা কর্মরত ছিলেন আবার সেই চাকরি থেকে অবসরে চলে গেছেন।আমরা বর্তমানে ডিজিটাল যুগে বসবাস করছি বিধায় বন্ধুরা একে অপরের খোঁজ খবর নেওয়াটা হাতের মুঠোয় তাছাড়া সকলেই এখন স্মার্টফোন ব্যবহার করে অডিও, ভিডিও কল দিয়ে একে অপরের সাথে যোগাযোগ করতে সহজ। আর আমরা বন্ধুরা SSC ১৯৮১ ব্যাচ প্লাটফর্ম খুলে আমাদের স্কুল ও কলেজ জীবনের অনেক স্মৃতি শেয়ার করতে পারছি তাছাড়া বর্তমান পরিস্থিতির খবরও রাখতে পারছি। কিন্তু আমরা যারা সরকারি চাকরি করেছি তারা কিন্তু স্মুথলি সরকার থেকে পাওনা পেয়েগেছি। কিন্তু আমাদের যে সকল বন্ধুরা এম পি ও ভূক্ত শিক্ষক তারা হতাশায় নিমজ্জিত। চাকরি শেষ হওয়ার পরদিন থেকে তারা কিন্তু পুরোপুরি ভাবে বেকার আর বেকারত্ব জীবন মূল্যহীন ভাবে কাটে। চাকরি শেষে সরকারি পাওনা কবে নাগাদ হবে তাও তারা জানে না। অনেকে দৌড় ঝাপ করছে
রেজাল্ট অশ্বডিম্ব। সবাই সিনিয়র সিটিজেন আর অনেকে শারীরিক ভাবে নানান রোগে আক্রান্ত হচ্ছেন। শারিরীক সুস্থতা জন্য চিকিৎসায় অনেক টাকার দরকার তা ছাড়া সংসার সব মিলিয়ে তাদের ত্রাহিত্রাহি অবস্থা।
শিক্ষা মন্ত্রনালয় আপনারা বাজেট তৈরি করেন সেখানে এই অবসর প্রাপ্ত শিক্ষক প্রতিবছরে কত হতে পারে ৮ টি ডিবিশনে তা আপনারা জানেন। যদি বলেন জট লেগে আছে সেক্ষেত্রে জট কমানোর জন্য একটি বাস্তব বাজেট তৈরি করে সরকার থেকে চাইতে পারেন। কিন্তু আমরা দেখছি পিছনের দরজা দিয়ে প্যাকেজ ভাবে ডিল হচ্ছে তা কিন্তু অবিচার। এই শিক্ষকগনরা সারাজীবন অন্যদের ভবিষ্যৎ গড়ার পিছনে নিজেকে নিয়োজিত করে অক্লান্ত পরিশ্রম করে যান কিন্তু অবসরে পৌঁছে যখন চাকরি পরিশেষে যখন সরকারি পাওনা শেষ সম্বলটি হাতে পায়না সঠিক সময়ে তখনই দেখা যায় মানসিক বিপর্যয় হতাশা ব্যক্ত হয়ে পরেন। আবার অনেকেই মৃত্যু বরন করছে তা খুবই দু:খজনক। মন্ত্রী মহোদয়দের প্রতি বিশেষ অনুরোধ এই মানুষ গড়ার কারিগরদের দিকে একটু সুনজর দেওয়ার বিশেষ অনুরোধ করছি। অন্তত মানুষ গড়ার কারিগরদের জন্য পজিটিভ কিছু করতে পারলে আপনারা জাতির কাছে শ্রেষ্ঠত হয়ে থাকবেন। মানুষ গড়ার কারিগরের পরিবারের সদস্যরা আজীবন সেই কৃতজ্ঞতা মনে লালন করে রাখবেন। নতুবা সারাদেশের মানুষ গড়ার কারিগরদের মানুষিক যন্ত্রণা ও তাদের চোখের জলের আর্তনাদে দায়িত্ব পালনের কর্মকর্তাদেরকে জাতির নিকট আজীবন কলঙ্কিত বয়ে রাখবে।
আমার দৃঢ় বিশ্বাস অন্তত মানুষ গড়ার কারিগরদেরকে নিয়ে কিছু একটা করুন এতে দেখা যাবে তারা মরেও স্বস্তিবোধ করবে আর প্রতিটি শ্বাস-প্রশ্বাসে দোয়া করে যাবে আপনাদের জন্যই।
লেখক : ডা: শাহ আলম, পরিচালক ও সিভিল সার্জন ( অব:).