শেখ মাহতাব হোসেন, ডুমুরিয়া খুলনা: আল্লাহর সন্তুষ্টি লাভের আশায় সামর্থ্যবান মুসলমানেরা ঈদ-উল-আজহায় পশু কোরবানি দিয়ে থাকেন।ঈদে দেশীয় গরুর ব্যাপক চাহিদা থাকায় খুলনার ডুমুরিয়া উপজেলায় প্রান্তিক কৃষক ও ছোট খামারিরা গরু পালন করছেন। কিছুটা বাড়তি লাভের আশায় ঈদ কে সামনে রেখে সকাল হতে সন্ধ্যা পর্যন্ত গরুকে গোসল করানো খাবার দেওয়া নিয়ে ব্যস্ত সময় পার করছেন প্রান্তিক খামারিরা।তবে ভালো দিক হলো ক্ষতিকর ইনজেকশন ও ট্যাবলেট ব্যবহার না করে দেশীয় পদ্ধতিতে গরু মোটা তাজা করছেন খামারি ও কৃষক।
খুলনা জেলার ডুমুরিয়া উপজেলার খলশি,সাজিয়াড়া,মির্জাপুর,খর্নিয়া,রুদাঘরা,ধামালিয়া,শিবপুর ঘুরে দেখা যায় এমন চিত্র।
ডুমুরিয়া উপজেলা প্রাণি সম্পদ কর্মকর্তা মোঃ আশরাফুল কবির বলেন ১৪ টিইউনিয়নে ৬ হাজার কোরবানি গরু আছে সাড়ে ১০ হাজার কোরবানীর ছাগল ও মোট ১৭ হাজার মজুত রয়েছে।
এছাড়া বাণিজ্যিক ভাবে খামারে পশু পালন করছে। আর এ থেকে পশু উৎপাদিত হবে যা চাহিদার তুলনায় পর্যাপ্ত। খামারি শামীম মিয়া বলেন, আমি বহু দিন যাবত খামার করে আসছি। এবছর ভালো করে প্রস্তুতি নিচ্ছি।আমার খামারে এখন দেশি গরু ১০-১১টি রয়েছে।আমারা যারা ছোট খাটো খামারিরা তারা বেশি একটা লাভবান হতে পারি না, কারণ প্রত্যেকটা জিনিসের দাম বেশি। বেশি দাম দিয়ে খাবার কিনে খাওয়ালে বেশি একটা লাভবান হওয়া যাবে না।
আমরা প্রাকৃতিক সব খাবার খাওয়াচ্ছি। অনন্যা ফার্মের স্বত্বাধিকারী জুয়েল বলেন, এখানে আমি তিনটি গরু নিয়েছি আজ থেকে চারমাস আগে মোটাতাজা করারজ ন্য। এক একটা গরু প্রায় ৬০ থেকে ৭০ হাজার টাকা করে কেনা।ঈদের আগে শেষ মুহূর্তে গরু মোটাতাজা করতেছি। ইন্ডিয়ান গরু না আসে তাহলে আমরা একটু লাভবান হতে পারব। সরকারের কাছে আবেদন ঈদের আগে যাতে ইন্ডিয়ান গরু বাংলাদেশে না ঢুকে তাহলে ছোট খাটো খামারিরা লাভবান হতে পারবো।
আরেক খামারের খামারি সোহেল মাহমুদ বলেন, এ এলাকায় বেশির ভাগ খামারি দেশীয় পদ্ধতিতে গরু মোটা তাজা করছেন। সম্পূর্ণ দেশীয় পদ্ধতিতে ঘাস-খড়ের পাশাপাশি খৈলগুঁড়া ও ভুসি খাওয়ানো হচ্ছে।
গো খাদ্যের দাম বেড়ে যাওয়ায় বর্তমানে গরুতে লাভ কিছুটা কমে গেছে। গত বার চারটি গরু বিক্রি করেপ্রায় ৫০হাজার টাকা লাভ হয়েছিল। এবছর কোরবানি উপলক্ষে সাতটি গরু পালন করছি। আশাকরি এবারও ভালোদাম পাব।
খুলনা জেলা প্রাণি সম্পদ অফিসার ডা. আইয়ুব আলী বলেন, আসন্ন পবিত্র ঈদ-উল-আজহা উপলক্ষে খুলনা জেলায় ৪ হাজার ৩১৭ জন পারিবারিক ও বাণিজ্যিক ভাবে খামার পরিচালনা করছেন।এই খামার গুলোকে আমরা প্রাণিসম্পদ বিভাগ থেকে ভ্যাকসিন এবং চিকিৎসা পরামর্শ দিয়ে থাকি।