নেত্রকোনা জেলার পূর্বধলা উপজেলায় সংঘটিত এক ন্যক্কারজনক, অমানবিক ও হৃদয়বিদারক ঘটনায় আমরা গভীর উদ্বেগ, ক্ষোভ ও তীব্র নিন্দা জানাচ্ছি। প্রাপ্ত তথ্যে জানা গেছে, রাফি আহমেদ নামক এক যুবক—যিনি নিজেকে ছাত্র আন্দোলনের সমন্বয়ক হিসেবে পরিচয় দিয়ে থাকেন—তার কয়েকজন সহযোগীসহ সে প্রকাশ্যে একটি স্কুলছাত্রীকে শ্লীলতাহানির মতো জঘন্য অপরাধে লিপ্ত হয়।
ঘটনার বিবরণ অনুযায়ী, পূর্বধলা উপজেলার দারুল হুদা মাদরাসা সংলগ্ন এলাকায় একটি চলন্ত ভ্যানে করে স্কুলছাত্রীটি যাওয়ার সময় অভিযুক্ত ব্যক্তি ও তার সহযোগীরা উদ্দেশ্যমূলকভাবে তাকে উত্যক্ত করে। একপর্যায়ে চলন্ত ভ্যানের মধ্যেই ভুক্তভোগী ছাত্রীর পায়জামা টেনে খুলে ফেলে তাকে চরম অপমানজনক, ভীতিকর ও ট্রমাটিক পরিস্থিতির মধ্যে ফেলে দেওয়া হয়। একই সঙ্গে অভিযুক্তদের সহযোগীরা এই জঘন্য অপরাধের ভিডিও ধারণ করে এবং তা ফেসবুকসহ বিভিন্ন সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেয়।
এই ঘটনা কেবল একটি শিশুর শারীরিক ও মানসিক নির্যাতনের মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়; এটি নারীর মর্যাদা, নিরাপত্তা, মানবাধিকার এবং শিশু সুরক্ষার উপর সরাসরি ও নির্মম আঘাত। ভিডিওটি ভাইরাল হওয়ার পর সারাদেশের নারী ও কন্যাশিশুদের মধ্যে তীব্র ভীতি, আতঙ্ক ও নিরাপত্তাহীনতা তৈরি হয়েছে। এ ধরনের অপরাধ যদি কঠোরভাবে দমন না করা হয়, তবে নারীদের শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে যাওয়া, রাস্তায় চলাচল করা কিংবা স্বাভাবিক জীবনযাপনই প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে পড়বে—যা একটি সভ্য ও আইনসম্মত রাষ্ট্রের জন্য ভয়াবহ সংকেত।
নারী উন্নয়ন শক্তি, ফোরাম ফর কালচার এন্ড হিউম্যান ডেভেলপমেন্ট, ইয়াং উইমেন ফর ডেভেলপমেন্ট রাইটস অ্যান্ড ক্লাইমেট, ডোমেস্টিক ওয়ার্কার এমপ্লোয়ারস’ এসোসিয়েশন বাংলাদেশ, বাংলাদেশ শিশু অধিকার ফোরাম, জাতীয় গার্হস্থ নারী শ্রমিক ইউনিয়ন, গ্রীনবাংলা গার্মেন্টস ওয়ার্কার্স ফেডারেশন, জাগো নারী ফাউন্ডেশন, টেক্সটাইল গার্মেন্টস ওয়ার্কার্স ফেডারেশন এবং বাংলাদেশ গার্মেন্টস লেবার কংগ্রেস
সহ ১০ টি মানবাধিকার সংগঠন সম্মিলিতভাবে এই ঘটনার তীব্র নিন্দা ও প্রতিবাদ জানাচ্ছে এবং অভিযুক্ত রাফি আহমেদসহ ঘটনার সঙ্গে জড়িত সকল অপরাধীর বিরুদ্ধে অবিলম্বে আইনানুগ ব্যবস্থা গ্রহণের জোর দাবি জানাচ্ছে। সংগঠনগুলি পূর্বধলা থানায় দায়িত্ব প্রাপ্ত কর্মকর্তার কাছে একটি শাস্তির দাবি পত্র দাখিল করে।
আমাদের জোরালো দাবি—
১. উক্ত ঘটনার সঙ্গে জড়িত সকল অভিযুক্তকে দ্রুত গ্রেপ্তার করে সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করতে হবে।
২. ভিডিও ধারণ ও সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে ছড়িয়ে দেওয়ার অপরাধে সংশ্লিষ্টদের বিরুদ্ধে বিদ্যমান আইন অনুযায়ী কঠোর ব্যবস্থা গ্রহণ করতে হবে।
৩. ভুক্তভোগী স্কুলছাত্রী ও তার পরিবারের নিরাপত্তা, গোপনীয়তা এবং মানসিক সহায়তা নিশ্চিত করতে হবে।
৪. ভবিষ্যতে এ ধরনের অপরাধ প্রতিরোধে এলাকাভিত্তিক নজরদারি ও আইন প্রয়োগ কার্যক্রম জোরদার করতে হবে।
আমরা দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি, এই ঘটনার বিরুদ্ধে দ্রুত ও কঠোর পদক্ষেপ গ্রহণ করা হলে তা শুধু ভুক্তভোগীর ন্যায়বিচারই নিশ্চিত করবে না, বরং সমাজে একটি স্পষ্ট বার্তা পৌঁছে দেবে—নারী ও শিশুর প্রতি সহিংসতা, শ্লীলতাহানি ও ডিজিটাল অপরাধ কোনোভাবেই বরদাস্ত করা হবে না।
প্রতিবাদকারীগণ: ১. ডঃ আফরোজা পারভীন নির্বাহী পরিচালক নারী উন্নয়ন শক্তি, ২. শাহেদা ওয়াহাব সভাপতি ফোরাম ফর কালচার এন্ড হিউম্যান ডেভেলপমেন্ট ৩. নুসরাত সুলতানা আফরোজ এক্সিকিউটিভ চেয়ারপারসন ইয়াং উইমেন ফর ডেভেলপমেন্ট রাইটস অ্যান্ড ক্লাইমেট ৪. নাসিমা হক সেক্রেটারি ডোমেস্টিক ওয়ার্কার এমপ্লোয়ারস’ এসোসিয়েশন বাংলাদেশ ৫. খন্দকার রিয়াজ হোসেন পরিচালক বাংলাদেশ শিশু অধিকার ফোরাম ৬.বীর মুক্তিযোদ্ধা আবুল হোসাইন সভাপতি টেক্সটাইল গার্মেন্টস ওয়ার্কার্স ফেডারেশন ৭. সুলতানা বেগম সভাপতি গ্রীনবাংলা গার্মেন্টস ওয়ার্কার্স ফেডারেশন ৮. লাভলী ইয়াসমিন সাধারণ সম্পাদক জাগো নারী ফাউন্ডেশন ৯. মুরশিদা আখতার সাধারণ সম্পাদক জাতীয় গার্হস্থ নারী শ্রমিক ইউনিয়ন ১০. শামীমা সুলতানা সভাপতি বাংলাদেশ গার্মেন্টস লেবার কংগ্রেস।