প্রধানমন্ত্রীর এপিএস পরিচয়ে প্রতারণা অবশেষে মানিকগঞ্জ ডিবির জালে ধরা

নিজস্ব প্রতিবেদক : শনিবার , ২৩ মে ২০২৬

মোঃ লুৎফর রহমান , প্রতিনিধি, মানিকগঞ্জ : মানিকগঞ্জে জেলা গোয়েন্দা শাখার (ডিবি) এক অভিযানে গ্রেপ্তার করা হয়েছে আব্দুল্লাহ আল মামুন (৪৬) নামের এক প্রতারককে। নিজেকে প্রধানমন্ত্রীর সহকারী একান্ত সচিব (এপিএস), সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবী এবং সাংবাদিক পরিচয় দিয়ে দীর্ঘদিন ধরে কোটি কোটি টাকার প্রতারণা ও তদবির বাণিজ্য চালিয়ে আসছিল এই ব্যক্তি।

​গ্রেপ্তারকৃত মামুন মানিকগঞ্জের দৌলতপুর থানার উয়াইল গ্রামের আব্দুল হামিদের ছেলে। বর্তমানে সে ঢাকার সাভারের জালেশ্বর এলাকায় বসবাস করছিল। তার বিরুদ্ধে আগে থেকেই চেক জালিয়াতিসহ ৬টি মামলা রয়েছে, যার মধ্যে ২টিতে সে সাজাপ্রাপ্ত পলাতক আসামি।

 

শুক্রবার (২২ মে) বিকেলে  পুলিশ সুপার কার্যালয়ে আয়োজিত প্রেস ব্রিফিংয়ে জানা যায় গত ২১ মে (বৃহস্পতিবার) রাত ১১টার দিকে ঢাকার সাভারের জালেশ্বর এলাকায় অভিযান চালিয়ে তাকে গ্রেপ্তার করা হয়। এ সময় তার কাছ থেকে প্রতারণার কাজে ব্যবহৃত মোবাইল ফোন, ভুয়া সাংবাদিক আইডি কার্ড, ইংরেজিতে ‘PRESS’ লেখা একটি জিপ গাড়ি, সুপ্রিম কোর্টের আইনজীবীর লিফলেট এবং জমি ক্রয়-বিক্রয়ের দলিলের ফটোকপি উদ্ধার করা হয়।

​প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে জানা গেছে, মামুন দীর্ঘদিন ধরে জমি ও ফ্ল্যাট ব্যবসার নামে সাধারণ মানুষের সাথে প্রতারণা করে আসছিল। এর বাইরে নিজেকে ভিআইপি পরিচয় দিয়ে সরকারি কর্মকর্তাদের কাঙ্ক্ষিত স্থানে বদলি ও পদোন্নতির প্রলোভন দেখিয়ে বিপুল অর্থ হাতিয়ে নিত সে। এমনকি গত জুলাই অভ্যুত্থান-পরবর্তী বিভিন্ন মামলার আসামিদের নাম থেকে অব্যাহতি পাইয়ে দেওয়ার আশ্বাস দিয়েও মোটা অঙ্কের টাকা হাতিয়ে নেওয়ার অভিযোগ রয়েছে তার বিরুদ্ধে।

​সম্প্রতি গত ১৮ মে গণপূর্ত অধিদপ্তরের প্রধান প্রকৌশলী এবং খাদ্য অধিদপ্তরের মহাপরিচালককে (ডিজি) নিজের ব্যক্তিগত মোবাইল নম্বর থেকে কল দিয়ে নিজেকে প্রধানমন্ত্রীর সহকারী একান্ত সচিব পরিচয় দেয় মামুন। বিষয়টি বর্তমান বাংলাদেশ সরকারের মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর এপিএস-১ মহোদয়ের নজরে আসলে তিনি ১৯ মে ঢাকার ধানমন্ডি থানায় একটি সাধারণ ডায়েরি (জিডি নং-১১৫৫) করেন।

 

​মানিকগঞ্জ জেলা পুলিশ সুপারের তৎপরতায়

বিষয়টি জানার পর মানিকগঞ্জের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ সারওয়ার আলম (বিপিএম-সেবা) এর দিক-নির্দেশনায় মাঠে নামে ডিবি পুলিশ। জেলা গোয়েন্দা শাখার ইনচার্জ পুলিশ পরিদর্শক মানবেন্দ্র বালো-এর তত্ত্বাবধানে ডিবি'র একটি দল তথ্য-প্রযুক্তির সহায়তায় আসামির অবস্থান শনাক্ত করে সাভারে অভিযান চালায় এবং তাকে গ্রেপ্তার করতে সক্ষম হয়।

মানিকগঞ্জ পুলিশ সুপার মোহাম্মদ সারওয়ার আলম (বিপিএম-সেবা) জানান, আব্দুল্লাহ আল মামুনের বিরুদ্ধে পূর্বে চেক জালিয়াতিসহ মোট ৬টি মামলা রয়েছে। এর মধ্যে ২টি মামলায় তিনি সাজাপ্রাপ্ত এবং দীর্ঘদিন পলাতক ছিলেন। এ ঘটনায় পরবর্তী আইনগত ব্যবস্থা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে বলে জানান তিনি। 


আর্কাইভ