সাতক্ষীরার বেতনা নদীর বেড়িবাঁধে ভয়াবহ ফাটল ও ভাঙন

নিজস্ব প্রতিবেদক : বৃহস্পতিবার , ২৩ July ২০২৬

শাহীন গোলদার, স্টাফ রিপোর্টার,সাতক্ষীরা :সাতক্ষীরার উপকূলীয় উপজেলা আশাশুনির বুধহাটা ইউনিয়নের নওয়াপাড়া গ্রামে বেতনা নদীর বেড়িবাঁধে ভয়াবহ ফাটল ও ভাঙন দেখা দিয়েছে। দ্রুত ব্যবস্থা গ্রহণ না করা হলে যেকোন মুহুর্তে বেড়িবাঁধ বাঁধ ভেঙে বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হওয়ার আশঙ্কা দেখা দিয়েছে। এদিকে, বেড়িবাঁধ ভাঙন আতঙ্কে দিন কাটাচ্ছেন হাজার হাজার মানুষ।

খবর পেয়ে শুক্রবার বিকালে উপজেলা নির্বাহী অফিসার শ্যামানন্দ কুন্ডু ও পানি উন্নয়ন বোর্ডের এসও আব্দুল আলিম ভাঙন কবলিত এলাকা পরিদর্শন করেছেন।

স্থানীয় এলাকাবাসী জানায়, বেতনা নদীর নওয়াপাড়া অংশে দীর্ঘদিন ধরে ভাঙন দেখা দেয়। ইতিমধ্যে বেড়িবাঁধ ভাঙনে নওয়াপাড়া গ্রামের অসংখ্য ঘরবাড়ি, জমি নদী গর্ভে বিলীন হয়েছে। ফলে এক পাড়ের জমি হারাচ্ছে। অপর পাড়ে জমি বাড়ছে। নদী খননের সময় ভরাট হওয়া স্থান পুরোপুরি খনন না করে আংশিক খনন করা হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে। এরই মধ্যে বর্ষাকাল আসায় খননকাজের জন্য নদীতে দেওয়া মাটির বাঁধ ছুটিয়ে দেয়া হয়। কিন্তু নদী খননের জন্য নির্বাচিত এলাকার বাঁধ না ছুটিয়ে নওয়াপাড়ার অংশে বাঁধ ছুটানোর ফলে ওই পাড়েই নদী গর্ত হয়ে যায়। পরবর্তীতে খননের সময় অপর পাড়ে যেনতেন ভাবে খননকাজ শুরু করা হলেও শেষ করা হয়নি। ফলে নওয়াপাড়ার অংশই এখন ভাঙন শুরু হয়েছে। বর্তমানে ২ থেকে ৩'শ হাত বেড়িবাঁধ ভেঙে নদীতে চলে গেছে। এছাড়া প্রায় ১০০ হাত এলাকায় মূল বাঁধের বড় অংশে ভয়াবহ ফাটলের সৃষ্টি হয়েছে। দ্রুত বেড়িবাঁধ রক্ষার ব্যবস্থা না করলে যেকোন মুহুর্তে বাঁধটি ভেঙে বিস্তীর্ণ এলাকা প্লাবিত হওয়ার আশংকা রয়েছে।

এদিকে উপজেলা নির্বাহী অফিসার শ্যামানন্দ কুন্ডু, পানি উন্নয়ন বোর্ডের এসও আঃ আলিম ভাঙন কবলিত এলাকা পরিদর্শন করেন। এসময় উপজেলা যুব দলের সদস্য সচিব ও বুধহাটা ইউপি নির্বাচনে চেয়ারম্যান প্রার্থী আবু জাহিদ সোহাগ ও উপজেলা জামায়াতের কর্মপরিষদ সদস্য ও বুধহাটা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান প্রার্থী এড. শহিদুল ইসলাম উপস্থিত ছিলেন।

স্থানীয় আলহাজ্ব আব্দুল কুদ্দুছ, তারিকুল ইসলাম, হাসান ইকবাল মামুন, খোকন ঢালী, খোকন মোড়লসহ এলাকাবাসী জানান, বাঁধের অবস্থা মোটেই ভাল নয়। ফাটল বড় হতে হতে ১০০ হাত এলাকার মূল বাঁধের মাটি ধ্বস নেমেছে। বাঁধ রক্ষা না করা গেলে বুধহাটা ইউনিয়ন, ফিংড়ী, ব্রহ্মরাজপুর ও ধুলিহর ইউনিয়নের শত শত গ্রাম, হাজার হাজার বিঘা ফসলী জমি, মৎস্য ঘের ভেসে যাওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে।

পরিদর্শনকালে আশাশুনি উপজেলা নির্বাহী অফিসার ও পাউবোর এসও উর্দ্ধতন কর্মকর্তাদের সাথে কথা বলে তাদের অবহিত করেন। বাঁধ রক্ষায় তাৎক্ষণিক ব্যবস্থা নিতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ গ্রহন করা হবে বলে তারা এসময় এলাকাবাসীকে আশ্বস্ত করেন।


আর্কাইভ