কলমাকান্দায় বনবেড়া এগ্রোইকোলজি লার্নিং সেন্টারে জলবায়ু সহনশীল কৃষি পন্য উৎপাদনে আদিবাসী দম্পতির সফলতা

নিজস্ব প্রতিবেদক : বৃহস্পতিবার , ২৩ July ২০২৬

মো,ফখরুল আলম খসরু, কলমাকান্দা (নেত্রকোনা) প্রতিনিধি: নেত্রকোনার কলমাকান্দা উপজেলার খারনৈ ইউনিয়নের সীমান্তবর্তী ও গারো পাহাড়ের পাদদেশের বনবেড়া গ্রামের নাহাজন হাজং ও সারতী হাজং দম্পতি জলবায়ু পরিবর্তন ও পাহাড়ি ঢলের ঝুঁকি মোকাবিলা করে পরিবেশবান্ধব কৃষিচর্চার অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছেন। নিজেদের ৬৪ শতাংশ জমিতে তাঁরা নিরাপদ খাদ্য উৎপাদন, প্রাণবৈচিত্র্য সংরক্ষণ ও পরিবেশ সুরক্ষায় বিভিন্ন কৃষিপদ্ধতি অনুসরণ করছেন।

 

বস্তা, চাঙবেড ও সরাসরি মাটিতে শাকসবজি চাষের পাশাপাশি তাঁরা ভার্মি কম্পোস্ট, কিচেন জুস ও জৈব বালাইনাশক তৈরি ও ব্যবহার করছেন। বর্ষা মৌসুমে পাহাড়ি ঢলে নিচু জমির ফসল নষ্ট হলেও বস্তা ও চাঙবেড পদ্ধতিতে তাঁদের শাকসবজি তুলনামূলকভাবে নিরাপদ থাকে। এতে পরিবারের পুষ্টির চাহিদা পূরণের পাশাপাশি অতিরিক্ত সবজি বাজারে বিক্রি করে আয়ও করছেন তাঁরা।

 

সারতী হাজং বলেন, “বর্ষায় পাহাড়ি ঢলে চাষ করা শাকসবজি নষ্ট হয়ে যায়। কিন্তু বস্তা ও চাঙবেড পদ্ধতিতে চাষ করলে সারা বর্ষা ফসল ভালো থাকে। এতে পরিবারের পুষ্টির চাহিদা পূরণের পাশাপাশি বাজারে সবজি বিক্রি করে আয় করা যায়।”

 

নাহাজন হাজং বলেন, “আমি জৈব উপায়ে নিরাপদ খাদ্য উৎপাদন ও গ্রহণের উদ্দেশ্যে কৃষিচর্চা করি। ভার্মি কম্পোস্ট ও জৈব বালাইনাশক তৈরি ও ব্যবহার করি। অতিরিক্ত ভার্মি কম্পোস্ট বিক্রি করে পরিবারের প্রয়োজন মেটাই। পাশাপাশি বেগুন, কাঁকরোল, পেঁপে, কাঁচাকলা ও মরিচ বিক্রি করেও আয় করি।”

 

তাঁদের কৃষিখামারটি এখন বনবেড়া এগ্রোইকোলজি লার্নিং সেন্টার হিসেবে পরিচিত। এখানে বিভিন্ন স্থান থেকে কৃষক-কৃষাণী ও আগ্রহী মানুষ এসে পরিবেশবান্ধব কৃষিপদ্ধতি সম্পর্কে শিখছেন। নাহাজন হাজং নিজ অভিজ্ঞতা অন্যদের মধ্যে ছড়িয়ে দেওয়ার পাশাপাশি মরিচ ও বেগুনের বীজ এবং চারা দিয়ে সহযোগিতা করছেন।

 

বারসিকের সহযোগিতায় গড়ে ওঠা বনবেড়া এগ্রোইকোলজি লার্নিং সেন্টারটি বর্তমানে স্থানীয় কৃষক-কৃষাণীদের মধ্যে এগ্রোইকোলজি, জলবায়ু সহনশীল কৃষি ও নিরাপদ খাদ্য উৎপাদন বিষয়ে জ্ঞান ও অভিজ্ঞতা বিনিময়ের একটি কার্যকর প্ল্যাটফর্ম হিসেবে কাজ করছে।


আর্কাইভ