মো. লুৎফর রহমান, মানিকগঞ্জ : নিখোঁজের নয় দিন পেরিয়ে গেলেও সন্ধান মেলেনি কলেজছাত্র রিদয়ন আনসারীর (২৫)। পরিবারের অভিযোগ, তাঁকে জিম্মি করে ৫০ হাজার টাকা মুক্তিপণ দাবি করা হয়েছিল। দাবির পরিপ্রেক্ষিতে কয়েক দফায় ৪০ হাজার টাকা পরিশোধ করলেও তাঁকে ফেরত দেওয়া হয়নি। এ ঘটনায় উদ্বেগ ও উৎকণ্ঠায় দিন কাটছে পরিবারের সদস্যদের। রিদয়নকে দ্রুত জীবিত ও অক্ষত অবস্থায় উদ্ধারের দাবিতে ঢাকা-আরিচা মহাসড়কে মানববন্ধন করেছেন স্বজন, সহপাঠী ও এলাকাবাসী।
সোমবার (২ নভেম্বর) দুপুরে মানিকগঞ্জের ঘিওর উপজেলার বানিয়াজুরী বাসস্ট্যান্ড এলাকায় মহাসড়কের পাশে ঘণ্টাব্যাপী এ মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়। এতে রিদয়নের স্বজন, সহপাঠী, শিক্ষক, জনপ্রতিনিধি ও বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষ অংশ নেন। এ সময় রিদয়নের মা শারমিন আক্তার ও স্বজনদের কান্নায় মানববন্ধনস্থলে আবেগঘন পরিস্থিতির সৃষ্টি হয়।
মানববন্ধনে সংহতি প্রকাশ করেন বানিয়াজুরী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এস আর আনসারী বিল্টু, ব্যুরো অব সোশ্যাল ওয়েলফেয়ারের সভাপতি নুর ইসলাম সাট্টার, এনপিআই ইউনিভার্সিটির ট্রাস্টি বোর্ডের প্রধান প্রকৌশলী ড. মো. ফারুক হোসেন, রিদয়নের মা শারমিন আক্তার, বড় ভাই শাহরিয়ার আনসারী ও চাচা আবদুল হান্নান আনসারীসহ স্থানীয় ব্যক্তিরা।
বক্তারা বলেন, প্রযুক্তির সর্বোচ্চ ব্যবহার করে রিদয়নের অবস্থান শনাক্ত করতে হবে। দ্রুত তাঁকে জীবিত ও অক্ষত অবস্থায় উদ্ধার করে পরিবারের কাছে ফিরিয়ে দেওয়ার জন্য প্রশাসনের প্রতি জোর দাবি জানান তাঁরা। দ্রুত উদ্ধার করা না হলে মহাসড়ক অবরোধসহ আরও কঠোর কর্মসূচি দেওয়ার হুঁশিয়ারিও দেন মানববন্ধনকারীরা।
বানিয়াজুরী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এস আর আনসারী বিল্টু বলেন, রিদয়ন শুধু একটি পরিবারের সন্তান নন, তিনি এ এলাকারও সন্তান। তাঁকে ফিরে পেতে পুরো এলাকার মানুষ আজ এক হয়েছে। দ্রুত তাঁকে সুস্থ ও অক্ষত অবস্থায় উদ্ধারের জন্য প্রশাসনের কাছে জোর দাবি জানাচ্ছি।
রিদয়নের বড় ভাই শাহরিয়ার আনসারী বলেন, অপহরণকারীদের দাবিমতো টাকা দেওয়ার পরও তাঁর ভাইকে ফেরত দেওয়া হয়নি। নয় দিন ধরে তাঁরা দিশেহারা। মায়ের কান্না থামছে না। ভাইকে জীবিত ও সুস্থ অবস্থায় ফিরে পেতে সরকারের সংশ্লিষ্ট সব দপ্তরের জরুরি হস্তক্ষেপ চান তাঁরা।
পরিবার সূত্রে জানা গেছে, রিদয়ন আনসারী মানিকগঞ্জের ঘিওর উপজেলার বানিয়াজুরী ইউনিয়নের তারাইল গ্রামের প্রয়াত আবদুল মান্নান আনসারীর ছোট ছেলে। তিনি পরিবারের সঙ্গে ঢাকার নিউ ইস্কাটনে বসবাস করতেন। বিবিএ পড়াশোনার পাশাপাশি একটি বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে চাকরি করতেন।
গত ২৪ অক্টোবর সন্ধ্যা সাড়ে ৬টার দিকে গাজীপুরের কালিয়াকৈরের সফিপুরে বড় বোনের বাসা থেকে ঢাকার মগবাজারের উদ্দেশে রওনা হন রিদয়ন। ওই দিন রাত সাড়ে ৯টার দিকে বড় ভাই শাহরিয়ারের সঙ্গে তাঁর শেষ কথা হয়। এরপর থেকে তাঁর মুঠোফোন বন্ধ পাওয়া যায়। স্বজনেরা বিভিন্ন স্থানে খোঁজাখুঁজি করেও তাঁর সন্ধান পাননি।
পরিবারের অভিযোগ, ২৫ অক্টোবর ভোর ৫টা ৩৯ মিনিটে অজ্ঞাত একটি নম্বর থেকে শাহরিয়ারের মুঠোফোনে কল করে রিদয়নকে জিম্মি রাখার কথা জানানো হয়। এ সময় তাঁকে মুক্তি দিতে ৫০ হাজার টাকা দাবি করা হয়। বিশ্বাসযোগ্যতা তৈরির জন্য অল্প সময়ের জন্য রিদয়নের সঙ্গে কথা বলার সুযোগও দেওয়া হয়েছিল বলে পরিবারের দাবি। পরে কথিত অপহরণকারীদের দেওয়া কয়েকটি বিকাশ ও নগদ নম্বরে কয়েক দফায় মোট ৪০ হাজার টাকা পাঠান স্বজনেরা। কিন্তু টাকা পাওয়ার পরও রিদয়নকে মুক্তি দেওয়া হয়নি। একপর্যায়ে যোগাযোগ বন্ধ করে দেয় অজ্ঞাত ব্যক্তিরা।
এ ঘটনায় ২৫ অক্টোবর রিদয়নের মামাতো ভাই ফয়সাল মাহমুদ কালিয়াকৈর থানায় সাধারণ ডায়েরি (জিডি) করেন। পাশাপাশি র্যাব-৩-এর খিলগাঁও ক্যাম্পের কোম্পানি কমান্ডারের কাছেও লিখিত অভিযোগ দেওয়া হয়েছে বলে পরিবার জানিয়েছে।
এ বিষয়ে ঘিওর থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মোহাম্মদ মহব্বত কবির বলেন, শান্তিপূর্ণ পরিবেশে মানববন্ধন অনুষ্ঠিত হয়েছে। মানববন্ধনকারীদের দাবির বিষয়টি ঊর্ধ্বতন কর্তৃপক্ষকে অবহিত করা হয়েছে।