মো. লুৎফর রহমান, মানিকগঞ্জ : মানিকগঞ্জে খোলা বাজারে বিক্রয় (ওএমএস) কর্মসূচির আওতায় স্বল্পমূল্যে আটা কিনতে গিয়ে সাধারণ মানুষের চরম ভোগান্তি পোহাতে হচ্ছে। দীর্ঘ সময় লাইনে দাঁড়িয়েও চাহিদার তুলনায় পর্যাপ্ত বরাদ্দ না থাকায় শেষ পর্যন্ত অনেককে খালি হাতে বাড়ি ফিরতে হচ্ছে। নিম্ন আয়ের মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় যখন ঊর্ধ্বমুখী, তখন এই সংকট তাদের দুশ্চিন্তা আরও বাড়িয়ে দিয়েছে।
সকাল থেকেই দীর্ঘ লাইন ও স্বস্তি-হাতাশার মিশ্র চিত্র: সরেজমিনে সোমবার দেখা যায়, সাটুরিয়া উপজেলার বিভিন্ন ওএমএস পয়েন্টে স্বল্পমূল্যের আটা সংগ্রহের জন্য ভোর থেকেই নারী-পুরুষের উপচে পড়া ভিড় জমছে। ঘণ্টার পর ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে নির্দিষ্ট মূল্যে আটা হাতে পেয়ে অনেককে স্বস্তি প্রকাশ করতে দেখা যায়।
উপজেলার চর সাটুরিয়ার বাসিন্দা হাজেরা বেগম দীর্ঘ অপেক্ষার পর স্বস্তি প্রকাশ করে বলেন, ১২০ টাকায় ৫ কেজি আটা পেয়েছি, এতে আমাদের মতো গরিব মানুষের অনেক উপকার হয়েছে। সরকারের এই উদ্যোগকে আমি সাধুবাদ জানাই।
তবে এই স্বস্তির ছবি ছাপিয়ে হতাশার চিত্রও কম নয়। রাধানগর থেকে আসা ৬৫ বছর বয়সী বৃদ্ধা কাজলী দীর্ঘ দুই ঘণ্টা লাইনে দাঁড়িয়ে থেকেও শেষ পর্যন্ত আর আটা সংগ্রহ করতে পারেননি। বরাদ্দ শেষ হয়ে যাওয়ায় ভারাক্রান্ত মনে তাকে খালি হাতে বাড়ি ফিরতে হয়। তাঁর মতো অনেককেই লাইনের শেষ প্রান্তে দাঁড়িয়ে শূন্য হাতে ফিরে যাওয়ার আক্ষেপ প্রকাশ করতে দেখা যায়।
বরাদ্দ বাড়ানোর দাবি ডিলারদের: মাঠপর্যায়ে ওএমএস কার্যক্রম পরিচালনার সঙ্গে যুক্ত ডিলারদের মতে, বর্তমান যে বরাদ্দ রয়েছে তা দিয়ে স্থানীয় চাহিদা পুরোপুরি মেটানো সম্ভব হচ্ছে না।
চর সাটুরিয়ার ‘রেজা এন্টারপ্রাইজ’-এর স্বত্বাধিকারী মো. মহিউদ্দিন রেজা জানান, “আমার এই পয়েন্টে প্রতিদিন ১ টন (১০০০ কেজি) আটা বরাদ্দ পাওয়া যায়। এর মাধ্যমে প্রতিদিন আমরা ২০০ জন ব্যক্তির কাছে ৫ কেজি করে স্বল্পমূল্যে তা বিতরণ করতে পারি। কিন্তু লাইনে এর চেয়ে অনেক বেশি মানুষ আসেন। পেছনের দিকে থাকা বহু মানুষ আটা না পেয়ে খালি হাতে ঘুরে যান। সাধারণ মানুষের এই সংকট দূর করতে তিনি দ্রুত বরাদ্দ বাড়ানোর জোরালো দাবি জানান।
কর্তৃপক্ষের বক্তব্য:মানিকগঞ্জ জেলা খাদ্য নিয়ন্ত্রক খন্দকার নাজমুস সাকিব জানান,ওএমএস কার্যক্রমের মাধ্যমে জেলার প্রান্তিক ও নিম্ন আয়ের মানুষ সাশ্রয়ী মূল্যে চাল ও আটা পেয়ে অর্থনৈতিকভাবে উপকৃত হচ্ছেন। কার্যক্রমটিতে সম্পূর্ণ স্বচ্ছতা বজায় রাখতে জেলা প্রশাসন ও খাদ্য বিভাগের পক্ষ থেকে নিয়মিত মনিটরিং করা হচ্ছে। পাশাপাশি, যেকোনো জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলায় আমাদের খাদ্য গুদামগুলোতে পর্যাপ্ত খাদ্যশস্যের মজুত নিশ্চিত করা হয়েছে বলে জানান তিনি।
সংশ্লিষ্ট মহল মনে করছেন, নিম্ন আয়ের মানুষের কষ্ট লাঘবে ওএমএস কার্যক্রমে আটার বরাদ্দ দ্রুত বৃদ্ধি করা না হলে এই জনদুর্ভোগ আরও দীর্ঘায়িত হতে পারে।