নাসার টেলিস্কোপের ১৩০০ কোটি বছর আগের মহাবিশ্বের ছবি

নিজস্ব প্রতিবেদক : বুধবার , ১৩ July ২০২২

ছবিটি দেখলেই মুহূর্তেই বোঝা যায়, রাতের আকাশের ছবি। কারণ, তাতে অনেক তারার উপস্থিতি চোখে পড়ে। কিন্তু ছবিটি রঙিন। আর তাতেই খটকা। কারণ, রাতের আকাশে তাকিয়ে যে ছবি আমরা দেখি, তাতে লাল রঙের এত কিছু দেখা যায় না! শুধু কখনো কখনো রাতের আকাশে লালচে রঙের মঙ্গল গ্রহ দেখা যায়!

না। এটি আমাদের চোখে দেখা রাতের আকাশের ছবি নয়। ছবিটি প্রকাশ করে মার্কিন মহাকাশ গবেষণা সংস্থা নাসা জানিয়েছে, বহির্বিশ্বের এখন পর্যন্ত যত ছবি তোলা হয়েছে, তার মধ্যে এটি সবচেয়ে গভীর, তীক্ষ্ণ ও পরিচ্ছন্ন ইনফ্রারেড ছবি।

ছবিটি তোলাও হয়েছে বিশ্বের সবচেয়ে শক্তিশালী ও বৃহত্তম টেলিস্কোপের সাহায্যে। পৃথিবী থেকে যত দূরে চাঁদ, তার চার গুণ দূরত্বে এই টেলিস্কোপে ছবিটি তোলা। নাসা, ইউরোপীয় মহাকাশ সংস্থা ও কানাডিয়ান স্পেস এজেন্সির বানানো জেমস ওয়েব স্পেস টেলিস্কোপ গত সপ্তাহে এই ছবি তুলেছে। গতকাল এটি প্রকাশ করা হয়েছে। মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেন এই ছবি উন্মুক্ত করেন। গত রাতে জেমস ওয়েবের তোলা আরও চারটি ছবি প্রকাশ করার কথা রয়েছে।

প্রায় ১০ বিলিয়ন (১ বিলিয়ন=১০০ কোটি) ডলারের এই টেলিস্কোপ তৈরি করা হয়েছে দূর মহাকাশে, মহাবিশ্বের শুরুর দিকে গ্যালাক্সি সৃষ্টির সময়কে দেখার জন্য। বিগব্যাংয়ের মহাবিস্ফোরণের সঙ্গে সূচনা এই মহাবিশ্বের। কিন্তু সৃষ্টির কিছুকাল পরই সৃষ্ট কণা চারদিকে ছড়িয়ে পড়ে ও ধীরে ধীরে ঠান্ডা হয়ে যায়, মহাবিশ্বজুড়ে নেমে আসে অন্ধকার।

কিন্তু ছড়িয়ে–ছিটিয়ে থাকা হাইড্রোজেন, হিলিয়াম কণা এবং ধুলা কাছাকাছি হতে থাকলে একসময় মহাকর্ষ বল সেগুলোকে একত্র করে ঘনীভূত করে। এর ফলে সৃষ্ট তাপে হাউড্রোজেন জ্বলতে থাকে। সৃষ্টি হয় প্রথম প্রজন্মের তারা। আর তা থেকেই আসে প্রথম আলো। তারাকে ঘিরে শুরু হয় গ্যালাক্সি (তারামণ্ডল) সৃষ্টির কর্মযজ্ঞ। যত দূর জানা যায়, এর শুরু আজ থেকে প্রায় ১ হাজার ৩০০ কোটি বছর আগে। আর গতকাল নাসার প্রকাশ করা ছবিটি হলো সেই সময়কার মহাবিশ্বের একটি ক্ষুদ্র অংশের ছবি।

১০০ বছর আগে বিজ্ঞানী এডউইন হাবলের হাত ধরে আমরা জানি, সৃষ্টির পরপরই গ্যালাক্সিগুলো চারদিকে ছড়িয়ে পড়ছে আর তাতে মহাবিশ্ব ক্রমাগত আকারে সম্প্রসারিত হচ্ছে। বিজ্ঞানী আলবার্ট আইনস্টাইন তাঁর আপেক্ষিকতার সাধারণ তত্ত্বে জানাচ্ছেন, এই সম্প্রসারণের কারণে দূর থেকে আমাদের দিকে যে আলো আসে, সেটির তরঙ্গদৈর্ঘ্যও ক্রমাগত বেড়ে যায়। এতে নীল রঙের আলো ক্রমাগত লাল রঙের আলোতে পরিণত হয়।

তা ছাড়া গ্যালাক্সির চারপাশে যে ধুলারাশি, সেগুলো চোখে দেখার আলোকে শুষে নিয়ে অবলোহিত (ইনফ্রারেড) আলো বিকিরণ করে। এ জন্য দূর মহাকাশের মহাজাগতিক বস্তু দেখার জন্য এমন নভোদুরবিন বা স্পেস টেলিস্কোপ দরকার, যা এই অবলোহিত আলোতে কাজ করে। জেমস ওয়েব টেলিস্কোপ এমন আলোতে কাজ করে। প্রায় ২৫ বছর সময় নিয়ে যুক্তরাষ্ট্র, কানাডা ও ইউরোপের অর্থায়নে কয়েক হাজার বিজ্ঞানী ও প্রকৌশলীর চেষ্টায় গত বছরের শেষের দিকে এই টেলিস্কোপ মহাকাশে স্থাপন করা হয়েছে।


আর্কাইভ