চঞ্চল দাশ গুপ্ত, কক্সবাজার: মিয়ানমার হঠাৎ করেই কক্সবাজারে আশ্রিত রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসনে আগ্রহ প্রকাশ করেছে।এরই পরিপ্রেক্ষিতে ১৫মার্চ বুধবার সকাল ১০টার দিকে রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনের তালিকা যাচাই করতে মিয়ানমার সরকারের ২২ সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল নাফ নদী হয়ে কক্সবাজারের টেকনাফে পৌঁছেছে।
বুধবার (১৫ মার্চ) সকাল ১০টার দিকে স্পিডবোটে নাফ নদ পার হয়ে টেকনাফের জালিয়াপাড়ার ট্রানজিট ঘাটে পৌঁছান প্রতিনিধিদলটি।
সেখানে কক্সবাজারস্থ শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার মিজানুর রহমানের নেতৃত্বে বাংলাদেশের একটি প্রতিনিধিদল তাদের স্বাগত জানান।
অতিরিক্ত শরণার্থী, ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার মোহাম্মদ শামছু-দ্দোজা বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
এর আগে রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসনের উদ্যোগের অংশ হিসেবে গত সপ্তাহে ইয়াঙ্গুনে নিযুক্ত আটটি দেশের কূটনীতিকদের রাখাইনে নিয়ে যাওয়া হয়। তাদের মধ্যে বাংলাদেশ, ভারত ও চীনসহ অন্যান্য দেশের কূটনীতিকরাও ছিলেন।দেশটি এখন একটি পাইলট প্রকল্পের আওতায় বাংলাদেশ থেকে এক হাজারেরও বেশি রোহিঙ্গাকে ফিরিয়ে নেওয়ার বিষয়টি সামনে এনেছে। মূলত চীনের চাপেই মিয়ানমার এ উদ্যোগ নিচ্ছে।
সূত্র জানায়, মিয়ানমারের ইমিগ্রেশন বিভাগের ২২ সদস্যের প্রতিনিধিদলটি বুধবার সকাল ৯টা ৫০ মিনিটে টেকনাফে পৌঁছায়।
এ সময় তাদের নিরাপত্তা দেয় বর্ডার গার্ড বাংলাদেশ (বিজিবি)। এরপর প্রতিনিধিদলের সদস্যদের একটি গাড়িতে করে টেকনাফ স্থলবন্দর মালঞ্চ রেস্টহাউসে আনা হয়।
এরপর তাদের সঙ্গে নিয়ে সকলে যান টেকনাফের কেরুনতলীস্থ প্রত্যাবাসন ঘাটে। ওখানে দ্বিপক্ষীয় একটি বৈঠক শুরু হয়।
বাংলাদেশের পাঠানো তালিকা থেকে মিয়ানমার যেসব রোহিঙ্গাকে তাদের নাগরিক হিসেবে যাচাই-বাছাই করে ফিরতি তালিকা দিয়েছিল, তা নিয়ে দুই দেশের মধ্যে এ বৈঠক হয়।
এরপর প্রত্যাবাসনে তালিকাভুক্ত পরিবারের বাদ পড়া সদস্য রোহিঙ্গাদের বিষয়ে মিয়ানমার থেকে আসা প্রতিনিধি দল যাচাই-বাছাই করার কথা।
শরণার্থীবিষয়ক কমিশন সূত্র জানায়, রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসন প্রক্রিয়াটির রুট ম্যাপ নিয়ে আলোচনা হতে পারে। তবে এ বৈঠক মানে প্রত্যাবাসন শুরু নয়।
এদিকে শরণার্থী কমিশনের দাবি, বাংলাদেশ মিয়ানমারকে ৮ লাখ ৩০ হাজারের মতো রোহিঙ্গার তালিকা দিয়েছিল। সেখান থেকে বেছে নেয়া হয়েছে মাত্র ৬০ হাজারের মতো।
তালিকা ধরে এর আগেও দুবার রোহিঙ্গাদের প্রত্যাবাসন শুরু হওয়ার কথা ছিল; কিন্তু রোহিঙ্গাদের আপত্তিতে তা সম্ভব হয়নি।
উল্লেখ্য, ২০১৭ সালে মিয়ানমার বাহিনীর নির্যাতনের মুখে পালিয়ে আসা প্রায় ১২ লাখ রোহিঙ্গা কক্সবাজারের উখিয়া ও টেকনাফের ৩৩টি ক্যাম্প ও ভাসানচরে আশ্রিত আছেন। এর মধ্যে ৮ লাখ রোহিঙ্গা এসেছে ২০১৭ সালের ২৫ আগস্টের পর। দীর্ঘ সাড়ে পাঁচ বছরে একজন রোহিঙ্গাকে মিয়ানমারে ফেরত পাঠানো সম্ভব হয়নি।
কক্সবাজারের আশ্রয়শিবিরে থাকা রোহিঙ্গারা বিভিন্ন সময় দাবি জানিয়ে আসছেন, নাগরিকত্ব না পেলে তাঁরা মিয়ানমারে ফিরে যাবেন না।