ডায়াবেটিস রোগের সঙ্গে খাদ্য ব্যবস্থাপনা ও জীবনযাপনের নিবিড় সম্পর্ক রয়েছে। বিশেষ করে খাবারের ক্ষেত্রে ডায়াবেটিক রোগীদের অনেক নিয়মকানুন মেনে চলতে হয়। রোজায় ডায়াবেটিক রোগীদের জীবনধারা কেমন হবে সে সম্পর্কে জানাচ্ছেন
ডা. জাওয়াদ উন নবী শান্ত
রমজানে আমাদের স্বাভাবিক জীবনযাপনে বেশ খানিকটা পরিবর্তন ঘটে। সবচেয়ে বড় পরিবর্তন ঘটে খাবারের ধরন ও খাবার গ্রহণের সময়ের ক্ষেত্রে। সর্বসাধারণের জন্য এ পরিবর্তনের সঙ্গে মানিয়ে নেওয়া সহজ হলেও ডায়াবেটিক রোগীদের ক্ষেত্রে বিষয়টি একটু কঠিন হয়, তবে অসম্ভব নয়। বিশেষ কিছু সতর্কতা ও নিয়ম মেনে চললে এবং ডায়াবেটিস নিয়ন্ত্রণ থাকলে ডায়াবেটিক রোগীরাও নিশ্চিন্তে রোজা রেখে সুস্থ থাকতে পারবেন।
ডায়াবেটিসের রোজার জটিলতা
: দীর্ঘ সময় না খেয়ে থাকার কারণে রক্তে গ্লুকোজের পরিমাণ কমে হাইপোগ্লাইসেমিয়া হয়ে যেতে
পারে। এতে রোগী অজ্ঞান হয়ে যেতে পারেন।
: ভুল খাদ্যাভ্যাসের কারণে রক্তে গ্লুকোজের পরিমাণ বেড়ে হাইপারগ্লাইসেমিয়া হয়ে যেতে পারে।
: কিটো অ্যাসিডোসিস বা হাইপার অসমোলার স্টেট হতে পারে।
: যথেষ্ট পরিমাণে পানি বা ফ্লুইড জাতীয় খাবার না খেলে ডিহাইড্রেশন বা পানিশূন্যতা ঘটতে পারে।
কাদের জন্য রোজা ঝুঁকির
: হাইপো ও হাইপার গ্লাইসেমিক রোগী
: অনিয়ন্ত্রিত টাইপ-১ ও টাইপ-২ ডায়াবেটিক রোগী
: গর্ভকালীন ডায়াবেটিক রোগী
: বৃদ্ধ ডায়াবেটিক রোগী
: দীর্ঘমেয়াদি কিডনি জটিলতা বা ডায়ালাইসিসের রোগী
: দিনে একের অধিকবার ইনসুলিন নেন যারা
কেমন হবে রোজার খাবারদাবার
: ইফতারে অতিরিক্ত ভাজাপোড়া খাবার, মিষ্টি ও চর্বি জাতীয় খাবার গ্রহণ থেকে নিজেকে বিরত রাখতে হবে। ইফতার শুরু করতে পারেন একটি খেজুর দিয়ে। এ ছাড়া কম গ্লাইসেমিক ইনডেক্স যুক্ত ফল, ফলের জুস, টক দই, ডাবের পানি, চিড়া, একটা ছোট চাঁপা কলা, কাবাব, রুটি ইত্যাদি খেতে পারেন।
: রাতের খাবার হবে হালকা ও সহজপাচ্য যেমন—স্যুপ, মাছ বা মাংস দিয়ে অল্প লাল চালের ভাত, ওটস, চিড়া খেতে পারেন। ডায়াবেটিক রোগীদের পর্যাপ্ত পানি ও পুষ্টিকর তরল খাবার খেতে হবে, যেন পানিশূন্যতায় না ভোগেন।
: সেহরির শেষ সময়ের অল্প কিছুক্ষণ আগে খাবার গ্রহণ করতে হবে। সেহরির মেন্যুতে থাকতে পারে লাল চালের ভাত, লাল আটার রুটি বা চিড়া বা ওটস, দুধ, কলা, মাছ, মাংস, সবজি, ডাল রাখার চেষ্টা করতে হবে।
লক্ষণীয়
: রোজায় সাধারণত আগের মাত্রায় ওষুধ বা ইনসুলিন নেওয়া যায় না। তবে চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া নিজে নিজে ওষুধ বা ইনসুলিন সমন্বয় করবেন না।
: রোজায় সারা দিনের মোট ক্যালরি ঠিক রাখতে হবে, শুধু খাদ্য উপাদান ও খাওয়ার সময় পরিবর্তিত হবে।
: ইফতারে অতিভোজন এবং সেহরিতে অল্পভোজন থেকে নিজেকে বিরত রাখতে হবে।
: সেহরিতে কোনো অবস্থায়ই না খেয়ে বা সামান্য কিছু খেয়ে রোজা রাখা যাবে না।
: রক্তের গ্লুকোজ লেভেলে অসামঞ্জস্যতা দেখা দিলে দ্রুত চিকিৎসকের শরণাপন্ন
হতে হবে।
লেখক : চিকিৎসক, শহীদ তাজউদ্দীন আহমদ মেডিকেল হাসপাতাল