বুধবার সকালে রাজধানীর ফার্মগেটের বিএআরসি মিলনায়তনে জাতীয় কর্মশালার আয়োজন করে 'ঢাকা অঞ্চলের কৃষি উন্নয়ন প্রকল্প'। কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের (ডিএই) মহাপরিচালক মো. আব্দুর রহিম রহিমের সভাপতিত্বে প্রধান অতিথি ছিলেন কৃষি সচিব ড. মোহাম্মদ এমদাদ উল্লাহ মিয়ান, বিশেষ অতিথি ছিলেন অতিরিক্ত সচিব মির্জা আশফাকুর রহমান, বাংলাদেশ কৃষি গবেষণা কাউন্সিল (বিএআরসি)র নির্বাহী চেয়ারম্যান, ডিএইর সরেজমিন উইংয়ের পরিচালক ওবায়দুল মণ্ডল সহ ৮টি জেলার ৫৮টি উপজেলার কৃষি কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।
প্রকল্পের সার্বিক পরিস্থিতি তুলে ধরেন প্রকল্পের পরিচালক ড. মোহাম্মদ আবদুল কাইয়ুম মজুমদার তিনি জানান, প্রকল্পটি ২০২৫ সালের জুলাই থেকে ২০২৯ সালের জুন পর্যন্ত বাস্তবায়ন হচ্ছে। সরকারী অর্থায়নে প্রায় ১৪৫কোটি টাকা ব্যয়ে প্রকল্পটি বাস্তবায়িত হচ্ছে।
এই প্রকল্পটি ঢাকা অঞ্চলের মাটি ও আবহাওয়া উপযোগী, স্থানীয়ভাবে গ্রহণযোগ্য ফসলের শস্যবিন্যাসভিত্তিক নিবিড় ও আধুনিক চাষাবাদের মাধ্যমে কৃষি উৎপাদন ও উৎপাদনশীলতা বৃদ্ধি, খাদ্য ঘাটতি হ্রাসকরণ, নিরবিচ্ছিন্ন পুষ্টি সরবরাহ নিশ্চিতকরণ, টেকসই খাদ্য নিরাপত্তা নিশ্চিতকরণ, বাণিজ্যিক কৃষি, উদ্যোক্তা তৈরি, মহিলাদের আত্মকর্মসংস্থান ও কৃষকের আর্থ সামাজিক অবস্থার উন্নয়ন ঘটানো হবে।তাছাড়া প্রকল্পের প্রধান উদ্দেশ্য হচ্ছে,বিদ্যমান শস্যের নিবিড়তা ১৯৫% থেকে ৪-৫% বৃদ্ধির মাধ্যমে প্রকল্প এলাকায় ফসলের উৎপাদন ৭-৮% বৃদ্ধি; মাটির স্বাস্থ্য রক্ষা ও লাগসই কৃষি প্রযুক্তির ব্যবহার নিশ্চিতকরণ, উচ্চমূল্যের এবং স্বল্প পানি চাহিদার ফসল আবাদের মাধ্যমে বহুমুখী শস্য আবাদ এলাকা ১৮,৪৬,৫১৮ হেক্টর থেকে ২-৩% বৃদ্ধি এবং খাদ্য ঘাটতি ১৫% থেকে হ্রাস করে ১২% করা। প্রকল্প এলাকায় গ্রামীণ দরিদ্র জনগোষ্ঠীর দক্ষতা উন্নয়ন, উৎপাদিত উচ্চমূল্য ফসল ও চাহিদা ভিত্তিক কৃষিপণ্য প্যাকেজিং ও প্রসেসিং এবং বাজার সংযোগ স্থাপন, কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি ও খাদ্যের পুষ্টিমান উন্নয়ন; আয়বর্ধক কার্যক্রমে মহিলাদের অংশগ্রহণ ৩০% থেকে ন্যূনতম ৩-৪% বৃদ্ধি নিশ্চিতকরণের মাধ্যমে নারীর ক্ষমতায়ন, নেতৃত্ব তৈরি ও নিরাপদ খাদ্য উৎপাদনে সচেতনতা বৃদ্ধি।
কর্মশালার প্রধান অথিতির বক্তব্যে কৃষি সচিব ড. মোহাম্মদ এমদাদ উল্লাহ মিয়ান বলেন, আমাদের কৃষিখাতের দুর্বলতাকে চিহ্নিত করে এগিয়ে যেতে হবে। ফসলের প্রকৃত চিত্র তুলে ধরতে হবে।
কৃষি সচিব আরও বলেন, কোন উপকরণ ও প্রযুক্তি বিনামূল্যে দেওয়া যাবে না। প্রয়োজনে তাদের কাছ থেকে স্বল্প হলেও অর্থ নিতে হবে। কেননা বিনামূল্যে পেলে সেগুলোর কোন মূল্য থাকে না।
তারসাথে দেশের কৃষিকে বাণিজ্যিকীকরণ ও রপ্তানিমুখী করতে হবে।