কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের কর্মকর্তাদের হুমকি ও চাঁদার অভিযোগ শেকৃবি ছাত্রনেতার বিরুদ্ধে

নিজস্ব প্রতিবেদক : বৃহস্পতিবার , ১২ মার্চ ২০২৬

নুরে আলম, প্রতিবেদক:  কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরে ৫ই আগস্টের পর থেকে অস্থিতিশীলতা যেনো থামছেইনা।কর্মকর্তাদের বিরুদ্ধে মামলা,অফিস থেকে বের করে দেওয়ার পর এবার কৃষি কর্মকর্তাদের  হুমকি ও চাঁদা দাবির অভিযোগ উঠেছে শেকৃবি ছাত্রদল নেতার বিরুদ্ধে।

রাজধানীর খামারবাড়িতে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের (ডিএই) দপ্তরে ঢুকে কর্মকর্তাদের গালাগাল, চাঁদা দাবি এবং প্রাণনাশের হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে শেরে বাংলা কৃষি বিশ্ববিদ্যালয় (শেকৃবি) শাখা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক বি এম আলমগীর কবিরের বিরুদ্ধে। এ ঘটনায় নিজের নিরাপত্তা চেয়ে অধিদপ্তরের মহাপরিচালকের কাছে লিখিত আবেদন করেছেন ঢাকা অঞ্চলের ‘কৃষি উন্নয়ন প্রকল্প’-এর প্রকল্প পরিচালক ড. মোহাম্মদ আবদুল কাইয়ূম মজুমদার।

গত বুধবার দুপুরে রাজধানীর খামারবাড়িতে অবস্থিত কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের কার্যালয়ে এই ঘটনা ঘটে। এ সময় আলমগীর কবিরের নেতৃত্বে ১০–১২ জনের একটি দল কর্মকর্তাদের কক্ষে প্রবেশ করে চাঁদা দাবি ও হুমকি দেয়।

লিখিত অভিযোগে ড. কাইয়ূম মজুমদার জানান, বুধবার দুপুর আনুমানিক ১টা ৫০ মিনিটের দিকে আলমগীর কবিরের নেতৃত্বে ১০–১২ জন তার দপ্তরের ৭১৭ নম্বর কক্ষে প্রবেশ করেন। ঢুকেই তারা প্রকল্পের কর্মকর্তাদের রুম থেকে বের হতে বলে। প্রকল্প কর্মকর্তারা অন্য রুমে যেতেই ছাত্রনেতার অনুসারীরা পিডি'র রুম লক করে দিয়ে তাকে অকথ্য ভাষায় গালাগাল করতে থাকেন এবং মোটা অঙ্কের চাঁদা দাবি করেন বলে অভিযোগ করেন। চাঁদা দিতে অস্বীকৃতি জানালে তাকে শারীরিকভাবে লাঞ্ছিত করা হয় এবং প্রাণনাশের হুমকি দেওয়া হয়।

তিনি বলেন, এ ধরনের ঘটনার কারণে অফিসে স্বাভাবিকভাবে দায়িত্ব পালন করা কঠিন হয়ে পড়েছে। বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে বিবেচনা করে প্রয়োজনীয় আইনগত ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য মহাপরিচালকের কাছে আবেদন করেছেন তিনি।
একই দিনে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের আরও কয়েকজন কর্মকর্তাকে হুমকি দেওয়ার অভিযোগ উঠেছে ওই ছাত্রদল নেতার বিরুদ্ধে। পেঁয়াজ সংরক্ষণ প্রকল্পের পরিচালক ড. মো. মাহফুজুর রহমান ও অধিদপ্তরের পরিচালক (প্রশাসন) মো. হাবিবউল্লাহকেও হুমকি দেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ পাওয়া গেছে।

সরেজমিন উইংয়ের অতিরিক্ত উপপরিচালক ড. মাহফুজুর রহমান বলেন, ঘটনার সময় তিনি পরিচালক (প্রশাসন) মো. হাবিবউল্লাহর কক্ষে ছিলেন। তখন হঠাৎ করে আলমগীর কবির সেখানে ঢুকে তাকে বাইরে ডেকে আনেন।

তিনি বলেন, আলমগীর কবিরের সঙ্গে আরও ১০–১২ জন লোক ছিলেন। বাইরে ডেকে নিয়ে তিনি আমার কাছে পাঁচ লাখ টাকা চাঁদা দাবি করেন। আমি বলেছি, আমার কাছে টাকা নেই—কিডনি বিক্রি করে টাকা দিতে হবে। এর আগেও তিনি আমার কাছে দুই লাখ টাকা চাঁদা চেয়েছিলেন বলেও অভিযোগ করেন।

ড. মাহফুজুর রহমানের দাবি, শুধু তার কাছেই নয়, বিভিন্ন সময়ে অধিদপ্তরের অন্য কর্মকর্তাদের কাছেও মাঝেমধ্যে এসে চাঁদা দাবি ও হুমকি দেওয়া হয়। চাঁদা না দিলে প্রাণনাশের হুমকিও দেওয়া হয়।

তবে অভিযোগ অস্বীকার করেছেন শেকৃবি শাখা ছাত্রদলের সাধারণ সম্পাদক বি এম আলমগীর কবির। তিনি বলেন, এরকম কোনো ঘটনা ঘটেনি। আমি খামারবাড়িতে গিয়েছিলাম। ড. মাহফুজের সঙ্গে আমার আগে থেকেই ভালো সম্পর্ক আছে।তিনি আমার বড় ভাইয়ের মত সেইভাবে তারসাথে আলাপ করি।

তিনি আরও বলেন, ডিরেক্টর (প্রশাসন)-এর কক্ষে গিয়ে আমি শুধু সালাম দিয়ে এসেছি। এছাড়া প্রকল্প পরিচালক ড. মোহাম্মদ আবদুল কাইয়ূম আউটসোর্সিংয়ের মাধ্যমে বিভিন্ন কাজ করেন। আমাদের দলের কিছু লোককে সেখানে যুক্ত করার জন্য কথা বলেছিলাম। তিনি সাড়া দেননি, তাই আবার কথা বলার উদ্দেশ্যে গিয়েছিলাম।

এইদিকে এইঘটনার পর থেকে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের কর্মকর্তাদের ভেতরে এক ধরনের আতঙ্ক বিরাজ করছে।অনেকেই বলছে এইভাবে ভয়ভীতির মধ্যে কাজ করা যায়না।
তারা কর্তৃপক্ষের কাছে যথাযথ ব্যবস্থা নিয়ে  নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং অভিযোগের তদন্ত করে ব্যবস্থা নেওয়ার দাবি জানিয়েছেন।

এ বিষয়ে কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মো. আব্দুর রহিম বলেন,এই বিষয়টা নিয়ে আমি  আমার অধীনস্থ কর্মকর্তাদের সাথে বসে যথাযথ ব্যবস্থা নেবো।


আর্কাইভ