রূপগঞ্জে সাংবাদিকের ওপর সন্ত্রাসী হামলা মোটরসাইকেল ও নগদ টাকা লুট থানায় মামলা

নিজস্ব প্রতিবেদক : শুক্রবার , ২২ মে ২০২৬

মোঃ নুর আলম রূপগঞ্জ থেকেঃ নারায়ণগঞ্জ জেলার  রূপগঞ্জ উপজেলায় পেশাগত দায়িত্ব পালন শেষে বাড়ি ফেরার পথে বেসরকারি টেলিভিশন চ্যানেল ‘ইসলামী টেলিভিশন’-এর রূপগঞ্জ প্রতিনিধি আল আমিনের (৩২) ওপর ওত পেতে থাকা চিহ্নিত মাদক ব্যবসায়ী ও সন্ত্রাসীরা অত্যন্ত বর্বর ও নৃশংস হামলা চালিয়েছে। এ ঘটনায় রূপগঞ্জ থানায় মামলা দায়ের করা হয়েছে। বৃহস্পতিবার(২১ মে) সকালে আহত আল আমিন মিয়া বাদী হয়ে রূপগঞ্জ থানায় মামলাটি দায়ের করেন। মামলায় বিপ্লব,সাইফুল, জুয়েল, দিপু,অমিত,আরিফসহ অজ্ঞাত ১০/১২ জনের নাম উল্লেখ করা হয়। মামলা বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন রূপগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা ওসি এএইচএম সালাউদ্দিন।

 

এজাহার সূত্রে জানা গেছে, ভুক্তভোগী সাংবাদিক আল আমিন রূপগঞ্জ থানাধীন মুড়াপাড়া ইউনিয়নের বানিয়াদী গ্রামের (১নং ওয়ার্ড) মো. জয়নালের ছেলে। গত ১৯ মে দিবাগত রাত আনুমানিক ১২:০০ ঘটিকায় সংবাদ সংগ্রহের কাজ শেষ করে তিনি তার ব্যক্তিগত ‘টিভিএস ফোর-ভি’ (TVS 4V) মোটরসাইকেল (রেজিঃ নং- ১২-৬৮৬৩) যোগে বাড়ি ফিরছিলেন। পথিমধ্যে বানিয়াদী খালপাড় পাকা রাস্তায় পৌঁছানোমাত্রই পূর্ব শত্রুতার জেরে ওত পেতে থাকা স্থানীয় একদল চিহ্নিত সন্ত্রাসী ও মাদক ব্যবসায়ী দেশীয় অস্ত্রশস্ত্রে সজ্জিত হয়ে তার ওপর অতর্কিত হামলা চালায়।

 

হামলাকারীরা হলেন: বানিয়াদী গ্রামের মোসলেমের ছেলে বিপ্লব (৩৫), মছিমপুর গ্রামের রেজাহির ছেলে সাইফুল (৪০), বানিয়াদী গ্রামের লেয়াজ উদ্দিনের ছেলে জুয়েল (৪০), হযরত আলীর ছেলে দিপু (৩৫), ভূট্টোর ছেলে অমিত (২৮), এবং তাইজুদ্দিনের ছেলে আরিফ (২৬)। এছাড়া অজ্ঞাতনামা আরও ১০/১২ জন সন্ত্রাসী এই হামলায় চালায়। স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, অভিযুক্তরা এলাকার চিহ্নিত মাদকসেবী, মাদক ব্যবসায়ী এবং তাদের বিরুদ্ধে থানায় একাধিক অপরাধমূলক মামলা রয়েছে।

 

অভিযোগে জানা যায়, সন্ত্রাসীরা রামদা, চাপাতি, লোহার রড ও হকিষ্টিক নিয়ে সাংবাদিক আল আমিনের পথরোধ করে মোটরসাইকেল থেকে টেনেহিঁচড়ে নামায়। ১নং বিবাদী বিপ্লব লোহার রড দিয়ে আল আমিনের মাথা লক্ষ্য করে খুনের উদ্দেশ্যে আঘাত করলে তিনি জীবন রক্ষার্থে বাম হাত দিয়ে তা ঠেকান। এতে রডের প্রচণ্ড আঘাতে তার ডান হাতের কনুইয়ের হাড় ফেটে যায় । ২নং বিবাদী সাইফুল লোহার রড দিয়ে তার বাম হাতের বাহুতে সজোরে আঘাত করে মারাত্মক রক্তাক্ত জখম করে। অন্যান্য বিবাদীরা রড ও হকিষ্টিক দিয়ে এলোপাতাড়ি পিটিয়ে তার পিঠ, বুক ও শরীর মারাত্মক থেঁতলানো, কাটা ও রক্তাক্ত জখম করে। মারধরের একপর্যায়ে ১নং আসামি বিপ্লব তার সাথে থাকা পিস্তল বের করে সাংবাদিক আল আমিনের মাথায় ঠেকিয়ে তাকে সম্পূর্ণ জিম্মি করে ফেলে। এই সুযোগে ২নং আসামি সাইফুল আল আমিনের পকেটে অবৈধ মাদকদ্রব্য ঢুকিয়ে দেয় এবং নিজের মোবাইল ফোন দিয়ে তা ভিডিও করে। সাংবাদিক আল আমিন যদি পরবর্তীতে আইনি ব্যবস্থা নেন, তবে তাকে ‘মাদক ব্যবসায়ী’ সাজিয়ে সামাজিকভাবে হেনস্তা ও ব্লাকমেইল করার উদ্দেশ্যেই এই সুপরিকল্পিত নাটক সাজানো হয়। সাংবাদিকের চিৎকার শুনে আশপাশের লোকজন এগিয়ে আসতে থাকলে সন্ত্রাসীরা আল আমিনের কাছ থেকে ২ লক্ষ ২৫ হাজার টাকা মূল্যের মোটরসাইকেল এবং পকেটে থাকা নগদ ৩২ হাজার টাকা ছিনিয়ে নেয়। যাওয়ার সময় তারা হুমকি দেয় যে এই ঘটনা নিয়ে বেশি বাড়াবাড়ি করলে বা থানায় মামলা করলে আল আমিন ও তার পরিবারের সদস্যদের প্রাণে মেরে ফেলা হবে এবং তাদের ঘরবাড়ি আগুন দিয়ে জ্বালিয়ে ছাই করে দেওয়া হবে। পরবর্তীতে স্থানীয় লোকজন ও স্বজনরা রক্তাক্ত অবস্থায় আল আমিনকে উদ্ধার করে দ্রুত রূপগঞ্জ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সে নিয়ে ভর্তি করেন। হাসপাতালে চিকিৎসাধীন থাকা এবং স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিদের বিষয়টি অবগত করার কারণে থানায় লিখিত অভিযোগ দিতে কিছুটা বিলম্ব হয়। 

 

ভুক্তভোগী সাংবাদিক আল আমিন বলেন, রূপগঞ্জ থানা থেকে মাদকের তথ্য সংগ্রহ শেষে ওসি এএইচএম সালাহউদ্দিনের সাথে কথা বলে নিজ বাড়ি বানিয়াদী ফেরার পথে একদল সন্ত্রাসী অতর্কিত হামলা চালায়। পূর্ব শত্রুতা ও মাদকের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করায় বানিয়াদী এলাকার মৃত্যু সাধুর ছেলে ও মুড়াপাড়া ইউনিয়ন যুবদলের সভাপতি কামাল হোসেন ও ১নং ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি মনির হোসেনের হুকুমে  বিপ্লব,সাইফুল, জুয়েল, দিপু,অমিত,আরিফের নেতৃত্বে আরও অজ্ঞাত ১০/১২ জন মিলে আমাকে হত্যার উদ্দেশ্যে অস্ত্রের মুখে জিম্মি করে সন্ত্রাসী কার্যক্রম চালানো হয়। এবং আমার সাথে থাকা মোটরসাইকেল ও নগর টাকা লুট করে নিয়ে যায়। 

 

রূপগঞ্জ থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা(ওসি)এএইচএম সালাউদ্দিন বলেন, সাংবাদিকের উপর হামলার ঘটনায় মামলা হয়েছে আসামিদের গ্রেফতার ও  মোটরসাইকেল উদ্ধারে পুলিশ অভিযান শুরু করেছে।


আর্কাইভ