ইরানের ড্রোন হামলার আশঙ্কায় তেল স্থাপনায় লোহার খাঁচা গড়ছে আমিরাত

নিজস্ব প্রতিবেদক : শুক্রবার , ২২ মে ২০২৬

ইরানের ধারাবাহিক হামলার আশঙ্কার মধ্যে নিজেদের গুরুত্বপূর্ণ তেল স্থাপনাগুলো ঘিরে বিশেষ অ্যান্টি-ড্রোন প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা গড়ে তুলছে সংযুক্ত আরব আমিরাত (ইউএই)। এমন দাবি ঘিরে নতুন আলোচনা শুরু হয়েছে আন্তর্জাতিক অঙ্গনে।

সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম এক্সে ছড়িয়ে পড়া একটি ছবিতে দেখা গেছে, আবুধাবির একটি তেল সংরক্ষণাগারের চারপাশে লোহার জালের মতো কাঠামো নির্মাণ করা হচ্ছে। বিশ্লেষকদের ধারণা, এটি ভারী ড্রোন ঠেকাতে সক্ষম বিশেষ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা হতে পারে। যদিও ছবিটির সত্যতা স্বাধীনভাবে যাচাই করা সম্ভব হয়নি।

বিশ্ববাজারে জ্বালানি রপ্তানিনির্ভর অর্থনীতির দেশ আরব আমিরাত। দেশটির মোট জিডিপির প্রায় ৩০ শতাংশ সরাসরি তেল ও গ্যাস খাত থেকে আসে। রপ্তানি আয়েরও বড় অংশ নির্ভর করে জ্বালানির ওপর।

সম্প্রতি ইরান যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের বিরুদ্ধে আক্রমণাত্মক অবস্থান নেওয়ার পাশাপাশি আমিরাতকেও বারবার হুঁশিয়ারি দিয়ে আসছে। তেহরানের অভিযোগ, আবুধাবি ওয়াশিংটন ও তেল আবিবের সঙ্গে সামরিক ও গোয়েন্দা সহযোগিতা আরও গভীর করেছে।

এই পরিস্থিতিতে ইরান একাধিকবার আমিরাতের তেল স্থাপনা, পর্যটন কেন্দ্র এমনকি পারমাণবিক স্থাপনাকেও সম্ভাব্য লক্ষ্যবস্তু হিসেবে উল্লেখ করেছে।

এর মধ্যেই নতুন করে সামনে এসেছে আরব আমিরাত-ইসরায়েল সামরিক সহযোগিতার খবর। বিভিন্ন প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, দুই দেশ যৌথভাবে একটি প্রতিরক্ষা তহবিল গঠনের পরিকল্পনা করছে। এই তহবিল থেকে আধুনিক অস্ত্র, আকাশ প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা, অ্যান্টি-ড্রোন প্রযুক্তি উন্নয়ন ও কেনাকাটায় অর্থায়ন করা হবে।

মিডল ইস্ট আই-এর প্রতিবেদনে মার্কিন কর্মকর্তাদের বরাত দিয়ে বলা হয়, আমিরাত ও ইসরায়েল যৌথভাবে কাউন্টার-আনম্যানড এয়ারক্রাফট সিস্টেম (সি-ইউএএস) ও অন্যান্য আকাশ প্রতিরক্ষা প্রযুক্তি উন্নয়নে কাজ করবে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইরান যুদ্ধ চলাকালে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহুর গোপন আমিরাত সফরের সময় এই সমঝোতা চূড়ান্ত হয়। যদিও নেতানিয়াহুর সফরের খবর প্রকাশের পর তা অস্বীকার করে আবুধাবি।

এর আগেও আমিরাতকে আকাশ প্রতিরক্ষা সহায়তা দিয়েছে ইসরায়েল। চলতি বছরের মে মাসে ইরানি হামলা মোকাবিলায় আমিরাতে আয়রন ডোম প্রতিরক্ষা ব্যবস্থার ব্যাটারি ও অপারেটর পাঠানোর খবর প্রকাশ করে রয়টার্স।

মার্চে আমিরাতের প্রেসিডেন্ট উপদেষ্টা আনোয়ার গারগাশও দাবি করেছিলেন, ইরানের হামলার হুমকি আরব দেশগুলোর সঙ্গে ইসরায়েলের সম্পর্ক আরও ঘনিষ্ঠ করে তুলছে।


আর্কাইভ