মোঃ লুৎফর রহমান, মানিকগঞ্জ : মানিকগঞ্জের সাটুরিয়া উপজেলার শতবর্ষী ও ঐতিহ্যবাহী হরগজ পশুর হাট ক্রেতা-বিক্রেতাদের পদচারণায় মুখরিত হয়ে উঠেছে। সাপ্তাহিক প্রতি রোববার বসা এই হাটে এবার দেশি গরুর সরবরাহ চোখ পড়ার মতো। তবে তীব্র তাপদাহ এবং প্রয়োজনীয় অবকাঠামোর অভাবে হাটে আসা পশুর স্বাস্থ্যঝুঁকি ও নিরাপত্তা নিয়ে উদ্বেগ দেখা দিয়েছে।
দেশি গরুর বিপুল সরবরাহ, দাম নিয়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া
রোববার সকাল থেকেই মানিকগঞ্জসহ আশেপাশের বিভিন্ন জেলা ও রাজধানী ঢাকা থেকে ক্রেতারা হরগজ হাটে ভিড় জমাতে শুরু করেন। দুপুরের দিকে হাটে তিল ধারণের ঠাঁই ছিল না। বিক্রেতারা বিপুল পরিমাণ দেশি গরু হাটে তুলেছেন।
সকালে বেচাকেনা কিছুটা ধীরগতিতে চললেও বেলা বাড়ার সাথে সাথে তা জমে ওঠে। তবে দূর-দূরান্ত থেকে আসা ক্রেতাদের অনেকেই দাম নিয়ে কিছুটা অসন্তোষ প্রকাশ করেছেন। ঢাকা থেকে আসা ক্রেতা নাঈম জানান, "হাটে গরুর সরবরাহ ভালো হলেও বিক্রেতারা দাম একটু বেশি চাচ্ছেন। সাধ ও সাধ্যের মধ্যে মেলাতে কিছুটা হিমশিম খেতে হচ্ছে।" অন্যদিকে বিক্রেতাদের দাবি, গোখাদ্যের ঊর্ধ্বগতির কারণেই গরুর লালন-পালন খরচ বেড়েছে, ফলে কিছুটা বাড়তি দামে বিক্রি করতে হচ্ছে।
এদিকে, ঋতুগত অতিরিক্ত তাপমাত্রার কারণে হাটে আসা পশুগুলো চরম স্বাস্থ্যঝুঁকিতে পড়েছে। তীব্র গরমে অনেক গুরু অসুস্থ হয়ে পড়ার খবর পাওয়া গেছে, এমনকি হিট স্ট্রোকে আক্রান্ত হয়ে একটি গরুর মৃত্যুও হয়েছে।
পশুর স্বাস্থ্য সুরক্ষায় হাটে সার্বক্ষণিক দায়িত্ব পালন করছে উপজেলা প্রাণিসম্পদ দপ্তরের একটি বিশেষ মেডিকেল টিম।
সাটুরিয়া উপজেলা প্রাণিসম্পদ কর্মকর্তা ডা. তানজিলা ফেরদৌসী বলেন, "অত্যাধিক তাপমাত্রার কারণে হিট স্ট্রোকে অনেক গরু অসুস্থ হয়ে পড়েছে। আমি নিজে মেডিকেল টিমের সাথে থেকে বেশ কয়েকটি অসুস্থ পশুকে জরুরি চিকিৎসা দিয়েছি। দুর্ভাগ্যবশত, একটি গরু মারাও গেছে। এই পরিস্থিতিতে খামারি ও ক্রেতাদের পশুর প্রতি বাড়তি যত্ন নেওয়ার পরামর্শ দিচ্ছি।"
তিনি আরও বলেন তীব্র গরমে পশুকে ঠান্ডা রাখা এবং পানি পান করানোর জন্য হাটে পর্যাপ্ত পানির লাইনের সুব্যবস্থা ও নগদ টাকার লেনদেন হওয়ায় নিরাপত্তার জন্য একটি পুলিশ বক্স থাকার প্রয়োজন বলে তিনি মনে করেন।
হরগজ পশুর হাটটি এই অঞ্চলের অর্থনৈতিক চালিকাশক্তির অন্যতম একটি অংশ। তীব্র গরমের এই সময়ে হাটে আসা পশুদের জীবন বাঁচাতে অবিলম্বে পর্যাপ্ত পানির ব্যবস্থা করা এবং যেকোনো ধরনের অপ্রীতিকর ঘটনা এড়াতে একটি পুলিশ বক্স স্থাপন করা এখন সময়ের দাবি। হাট কমিটি ও স্থানীয় প্রশাসন দ্রুত এই বিষয়ে পদক্ষেপ নেবে—এমনটাই প্রত্যাশা সংশ্লিষ্ট সকলের।